এক মাসের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫০ টাকা
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
পশ্চিমের ছয় জেলায় এবার ২২ লাখ টন আমন ধান উত্পাদন হয়েছে। এখন আমন ধানের ভরা মৌসুম চলছে। হাটবাজারগুলোতে নতুন আমন ধানের আমদানিও প্রচুর। তবু দাম চড়া। এক মাসের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতি মণ ধানের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অতীতে দেখা গেছে, নতুন ধান ওঠার পর দাম কমে যায়। এবার তার উলটো হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণ কী, তার ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১০ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ১২৮ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ৬১ হাজার ৫৮৫ হেক্টরে, মেহেরপুর জেলায় ২৫ হাজার ৯১৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩২ হাজার ৬৬০ হেক্টরে এবং কুষ্টিয়া জেলায় ৮৮ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে ধান কাটা শেষ হয়েছে। চাষিরা জানান, ধানের ভালো ফলন হয়েছে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের চাষি মাসুদ হাসান পান্না জানান, উচ্চফলনশীল ধান বিঘাপ্রতি ২০-২২ মণ ফলন হয়েছে। আর হাইব্রিড ধান ৩০-৩২ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। হাটে ধানের আমদানি ভালো বলে জানিয়েছেন চাতাল ব্যবসায়ীরা।
গতকাল শনিবার শৈলকুপা হাটে আগুনিয়াপাড়া গ্রামের চাষি মোতাহার হোসেন মাঝারি চিকন ধান বিনা-৭ প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেন বলে জানান। তমালতলা গ্রামের চাষি গোপীনাথ রায় জানান, তিনি ধানী গোল্ড প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বিআর-৭৩ ধান ১ হাজার ১৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেন। ঝিনাইদহ জেলা রাইস মিল মালিক সমিতির সম্পাদক বিকাশ বিশ্বাস জানান, পশ্চিমের জেলাগুলোতে এক মাসের ব্যবধানে ধানের দাম মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মোটা ধান গুটি স্বর্ণা, লাল স্বর্ণা, বিআর-২২ ও বিআর-৪৯ প্রতি মণ ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি চিকন ধান বিনা-৭ ও ধানী গোল্ড প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পুরোনো ধান মিনিকেট প্রতি মণ ১ হাজার ৩৫০ টাকা, বিআর-২৮ ধান ১ হাজার ৩০০ টাকা, সুবল লতা ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাসমতি ১ হাজার ৪৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ধানের দাম বৃদ্ধির কারণে মোটা চাল পাইকারি কেজিপ্রতি ২ টাকা এবং চিকন চাল কেজিপ্রতি ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, আগে উত্তরবঙ্গ থেকে এই অঞ্চলের রাইস মিলগুলোতে ধান আসত। এ বছর এই অঞ্চল থেকে উত্তরবঙ্গের রাইস মিল মালিকেরা ধান কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ঝিনাইদহের নতুন হাটের খুচরা চাল বিক্রেতা পলাশ সাধু জানান, অটো মিল মালিকেরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ কারণে খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে। তিনি জানান, মোটা চাল প্রতি কেজি ৩৮ থেকে বেড়ে ৪২ টাকা, বিআর-২৮ প্রতি কেজি ৪৮ থেকে বেড়ে ৫৩ টাকা, মিনিকেট প্রতি কিজি ৫০ থেকে বেড়ে ৫৪ টাকা ও বাসমতি প্রতি কেজি ৫৬ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা জানান, এবার এই অঞ্চলে আমন ধানের হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৪ দশমিক ৭৮ টন হয়েছে। হাটবাজারে ধানের আমদানিও ভালো। তবে এ সময় ধানের দাম বাড়ার কারণ বলতে পারেন না তিনি।
