পৌরসভাকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার পদক্ষেপসহ হয়রানিমুক্তভাবে যাতে জনগণ সেবা পেতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। গত কয়েক বছরে অযৌক্তিভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক হারে পৌরকর বাড়ানো হয়েছে। এই কর বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। পৌরসভার আওতাধীন অনেক রাস্তা সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, পৌরসভার জায়গা দখল করে বাড়ির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে রাস্তাগুলো অনেক সরু হয়ে গেছে। বেআইনিভাবে তৈরি এইসব সীমানাপ্রাচীর ভেঙে রাস্তাগুলো সম্প্রসারণ করা জরুরি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেশিরভাগ ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা রয়েছে। শত বছরের পুরোনো অনেক জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। এই জলাশয়গুলো ভরাট না করে সংস্কার করা হলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতো। অগ্নি দুর্ঘটনায় শহরের এইসব জলাশয়ের পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। কাজেই যে কোনো মূল্যে অবৈধ দখল ও বেআইনিভাবে ভরাট করা জলাশয়গুলো দ্রুত দখলমুক্ত করে সংস্কারপূর্বক ব্যবহারোপযোগী করে তুলতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থেকে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পৌর এলাকার সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম তদারক করার ক্ষমতা ও অধিকার তাঁদের রয়েছে। যে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এবং উচ্চপর্যায়ে জানানোর অধিকারও রাখেন তাঁরা। জনগণের জন্য সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিত্সাব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি কাজ জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেয়র ও কাউন্সিলরদের ওপর বর্তায়। মাদক, সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনপ্রতিনিধিরা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে পারিবারিক, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। আমরা আশা করি, ফরিদপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট হবেন।
বিপ্লব বিশ্বাস
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
