সরকারি গাড়িতে করে ফেনসিডিল পরিবহনের অভিযোগে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নুরুজ্জামান ও তার কথিত ব্যবসায়ী বন্ধু ওহিদুজ্জামান লাজুকের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সাইফুর রহমান মামলা দায়ের করেন।
মো. নুরুজ্জামানের বাড়ি পাবনা জেলায়। তিনি ২৫তম ব্যাচের বিসিএস ক্যাডার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীর একটি সরকারি গাড়িতে ফেনসিডিল বহন করা হচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মহানন্দা ব্রিজের টোল প্লাজায় চেকপয়েন্ট স্থাপন করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মো. নুরুজ্জামানকে সরকারি পাজেরো গাড়ি ড্রাইভ করা অবস্থায় ঐ চেক পয়েন্টে আটক করা হয়। ঐ সময় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকা শিবগঞ্জ থেকে রাজশাহী ফিরছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আটকের সময় সরকারি গাড়িতে চালকের পাশের সিটে বসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আব্বাস বাজার গ্রামের ওহিদুজ্জামান লাজুক (৩৮)। তিনি পেশায় ওষুধের দোকানের কর্মচারী। তার পায়ের কাছে কোমল পানীয়ের পাঁচটি বড় বোতলে ৬ দশমিক ৮ লিটার ফেনসিডিল ছিল। নুরুজ্জামান নিজেকে সরকারের উপসচিব এবং লাজুককে তার বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, মো. নুরুজ্জামানের সরকারি গাড়িতে করে ফেনসিডিল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় নুরুজ্জামান ঐ গাড়ি ড্রাইভ করছিলেন। আটকের পর তিনি নিজেকে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরো জানান, আটকের পর লাজুককে জব্দকৃত ফেনসিডিলসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে নেওয়া হয়। আর নুরুজ্জামানের পরিচয় নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সার্কিট হাউজে নেওয়া হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে সরকারি কর্মকর্তারা নুরুজ্জামানকে রেখে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সার্কিট হাউজ ত্যাগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্লাহ কাজল বলেন, ‘নুরুজ্জামান সার্কিট হাউজে থাকাকালে সার্কিট হাউজের গেটগুলোতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সারা রাত অবস্থান করেন। সরকারি কর্মকর্তারা তাকে (নুরুজ্জামান) ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন এবং অকথ্য ভাষায় কথা বলেছেন। সরকারি শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর নুরুজ্জামানকে সার্কিট হাউজ থেকেই সরাসরি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে’।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, পুলিশের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছিলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক এজাহার দাখিলের পর আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আটকের পর মো. নুরুজ্জামানকে থানায় না নেওয়া সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, ‘সরকারের স্থানীয় কর্মকর্তাদের চাপে আটক বিএসসি ক্যাডার কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা সম্ভব হয়নি। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে আটকের পর স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে পরিচয় নিশ্চিত করতে মো. নুরুজ্জামানকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কিট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর সরকারি কর্মকর্তারা তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেননি। দুপুরে থানায় মামলার আগ পর্যন্ত আটক নুরুজ্জামান সার্কিট হাউজেই ছিলেন।’
অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলেছে। আইনের প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার কোনো এক্তিয়ার কারো নেই।
