বিদ্যুত্ উত্পাদনে ব্যবহূত ফার্নেস অয়েল আমদানিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ শুল্ক সুবিধা পেলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন পাচ্ছে না। ফলে বেসরকারি বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ সমূহের নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানির হিড়িক পড়েছে। কারণ বিপিসি থেকে তাদেরকে বেশি মূল্যে ফার্নেস অয়েল কিনতে হচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে বিপিসি থেকে কেনা ফার্নেস অয়েলের মান নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছে।
দেশে বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুত্ উত্পাদনকারি বড় বড় যেসকল প্রতিষ্ঠানের তেল মজুদ করার ব্যবস্থা রয়েছে তারাই নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানি করে আসছে। আবার বিপিসির অনেকের মতে, বেসরকারি পর্যায়ে যে ফার্নেস অয়েল আমদানির সুযোগ দেয়া হয়েছে তা বিদ্যুত্ উত্পাদনে পুরোপুরি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত্। অন্যদিকে, বেসরকারি বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দে র মালিকদের সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড ফার্নেস অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রটি মনিটরিং করে থাকে।
২০১০ সালের পর থেকে দেশে সরকারি বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দে র সাথে সাথে বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ স্থাপনে সরকার অনুমতি প্রদান করে আসছে। বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দে র বেশিরভাগই ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক হওয়ায় ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কতিপয় শর্তে ফার্নেস অয়েল আমদানিতে শুল্ক এবং মূল্য সংযোজন কর হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। বাস্তবে দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুত্ উত্পাদন ও সরবরাহ এবং দেশের শিল্প ও বিদ্যুত্ নির্ভর অন্যান্য খাতের উন্নয়ন তরান্বিত করার লক্ষ্যে ফার্নেস অয়েলের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যারা শুল্ক সুবিধা পাবে তাদের মধ্যে রয়েছে সরকারি বা বেসরকারি বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ , সরকারি বা বেসরকারি শিল্প কারখানায় স্থাপিত বয়লার, শিল্পে ব্যবহূত অন্যান্য যন্ত্রপাতি এবং ক্যাপটিভ বিদ্যুত্ প্লান্ট।
বিপিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাদের আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েল প্রজ্ঞাপনে দেয়া সকল শর্ত পূরণ করে। এছাড়া বিপিসির আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েলের সিংহভাগ বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দে ও সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবহূত হয়। কিন্তু ২০১১ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিপিসি ফার্নেস অয়েল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে না। বিপিসির পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে একাধিকবার পত্র দেয়া হলেও লাভ হয়নি। এর ফলে বিপিসিকে বেশি মূল্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ছোটছোট বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ সমূহকে যেমন বেশিমূল্যে ফার্নেস অয়েল কিনতে হচ্ছে একইভাবে সরকারি বিদ্যুত্ কেন্দ সমূহকেও বেশি মূল্যে ফার্নেস অয়েল কিনতে হচ্ছে। মূলত তাদের ফার্নেস অয়েল মজুদকরণ ব্যবস্থা না থাকায় বিপিসির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিপিসির ফার্নেস অয়েল আমদানি ছিল ১০ লক্ষ ১৬ হাজার টন। অথচ ২০১৭-১৮ বছরে নেমে দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার টনে।
