চট্টগ্রামে গোখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২৩:২৪

চট্টগ্রামে গোখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিপাকে ডেইরি খামারিরা। তাদের অভিযোগ সিন্ডিকেট করে কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দফায় দফায় গোখাদ্যের দাম বাড়াচ্ছে এবং তারাই এর নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনিতে করোনার কারণে পোলট্রি ও ডেইরি খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত তার ওপর এই ব্যয় বৃদ্ধিতে অনেক খামারি গরু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে প্রণোদনার জন্য জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চট্টগ্রামের প্রায় ১৭ হাজার খামারির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

খামারিরা জানান, দেশীয় ও আমদানি করা প্রতিটি পণ্যের দাম ২৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও কিছু দিন ধরে দফায় দফায় প্রতিটি গোখাদ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। চট্টগ্রামে গোখাদ্যের সকল আমদানিকারক ঢাকা কেন্দ্রিক। তাদের কাছ থেকে কিনে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে থাকেন। দেখা গেছে, আমদানি করা সয়ামিল প্রতিবস্তা ২ হাজার থেকে বেড়ে ২৭০০ টাকা, ধানের কুড়া ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫০ টাকা ও গমের ভুষি ৭৫০ থেকে বেড়ে ১০৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতা মো. শফি বলেন, প্রতিটি খাদ্যের দাম প্রতিমণে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পণ্য সরবরাহে              কোনো ঘাটতি না থাকলেও সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

খামারি মো. ওমর ইত্তেফাককে বলেন, গোখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে পশু মোটাতাজাকরণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। অনেক খামার বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে। গোখাদ্যের দাম বাড়লেও দুধ ও মাংসের দাম বাড়েনি।

অন্যান্য খামারিও জানান, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক খামারি গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। দেশীয় খামারে গরু পালন কমে গেলে আগামীতে কোরবানির বাজারে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রিয়াজুল হক জানান, করোনার কারণে পোলট্রি ও ডেইরি খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লকডাউনের সময় খামারিরা দুধ বিক্রি করতে পারেনি। দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে খামারিদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাই সরকারিভাবে পোলট্রি ও ডেইরি খামারিদের প্রণোদনা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাই প্রণোদনার জন্য চট্টগ্রামে ছোট-বড় সবমিলিয়ে ১৪ হাজার ডেইরি ও ৩ হাজার পোলট্রি খামারির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাতে তারা করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে।