বিদ্যুেক বাণিজ্যিক পণ্য মনে করার সময় আসেনি

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:১৫

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেছেন, বিদ্যুেক বাণিজ্যিক পণ্য (প্রাইভেট গুডস) মনে করার সময় এখনো আসেনি। উত্স জ্বালানির দাম বাড়লেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো প্রধানমন্ত্রী সমর্থন করেন না। এটি সরকারেরও নীতি। তাই অল্প অল্প করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিবেচনা করা হয়েছে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা।

গতকাল শনিবার ‘বিজয়ের ৫০ বছর ও বিদ্যুত্ খাতের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতে জ্বালানি দক্ষতা ও সাশ্রয়ের ওপর নজর দিতে হবে। তরল জ্বালানি তেল থেকে আমরা কিছুটা বের হয়ে আসব। ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেমের দিকে যাচ্ছি। এখানে কিছুটা ঝুঁকিও রয়েছে। যেমন রাশিয়া বসে ইউক্রেনের পাওয়ার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমরা যদি অনুকরণ করি তাহলে পিছিয়ে থাকব। আর যদি নিজেরা উদ্ভাবনী মেধা প্রয়োগ করি তাহলে এগিয়ে থাকব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুত্ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, শতভাগ বিদ্যুতায়নের পর সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত সরবরাহ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সারা বিশ্বেই পরিবর্তন এসেছে। আমাদেরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে থাকতে হবে। প্রথম দফায় ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভঙ্গুর বিদ্যুত্ খাতের পুনর্গঠন  চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। তখন সরকার বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। এরপর ২০০০ সালে আবার বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুত্ খাতকে অন্ধকারে ঠেলে  দেয়। এতে দেশ ৫০ বছর পিছিয়ে গেছে। তখন লোডশেডিংয়ের জন্য রাস্তায় মিছিল হয়েছে। ২০০৯ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করে। তখনো আমাদের আর্থিক সংকট ছিল, বিদ্যুত্ব্যবস্থা ভঙ্গুর ছিল। কেউ বিনিয়োগ করতে চায়নি। কিন্তু এরপরও সরকারের উদ্যোগে দুই থেকে তিন বছরে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সরকারের নীতিই বিদ্যুত্ খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, স্বাধীনতার সময় মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশর যাত্রা শুরু করে। ২০০৯ সালে ৪৭ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্ সুবিধা পেত। এখন দেশে ৯৯ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্ সুবিধা পাচ্ছে। মুজিববর্ষের মধ্যে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়া হবে। এখন আমাদের বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকারের বিদ্যুত্ খাতের অর্জন নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের ৯৯ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্ পেয়েছে। কিন্তু মানসম্মত বিদ্যুতের অভাব রয়েছে। সঞ্চালন এবং বিতরণে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রাথমিক জ্বালানির সংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে। উত্পাদনের সঙ্গে বিতরণেও বেসরকারিখাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য ব্যক্তি খাতের অংশগ্রহণের জন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়কে আরো উদার হওয়ার দরকার।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে বেসরকারি বিদ্যুত্ উত্পাদনকারীদের সংগঠন বিপ্পার সভাপতি ইমরান করিম বলেন, গত ১০-১৫ বছরে বিদ্যুত্ খাত আমূল বদলে গেছে। বেসরকারিখাত এখন দেশের মোট উত্পাদনের ৫০ শতাংশ বিদ্যুত্ উত্পাদন করছে। এফইআরবির চেয়ারম্যান অরুন কর্মকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শামীম জাহাঙ্গীর।