ঢাকা মহানগরীতে যে সব ভাস্কর্য আছে তা যাতে কেউ বিনষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ভাস্কর্য রক্ষার্থে প্রয়োজনে সাদা পোশাকে নিরাপত্তা ও সিসিটিভির ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেছেন ডিএমপি কমিশনার। গতকাল রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ সব নির্দেশনা দেন তিনি। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দ্যেশে আরো বলেন, সামনে বড় দুইটি উত্সব রয়েছে। একটি বড়দিন ও আরেকটি থার্টি ফার্স্ট নাইট। এ দুইটি উত্সব উপলক্ষ্যে সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন জানান, গত মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির আটটি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে যৌথভাবে প্রথম হয়েছে মিরপুর ও গুলশান বিভাগ। ডিএমপির ক্রাইম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনারদের (এসি) মধ্যে প্রথম হয়েছেন মিরপুর বিভাগের মিরপুর জোনের এম এম মঈনুল ইসলাম। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) মধ্যে প্রথম হয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার মাজহারুল ইসলাম। পুলিশ পরিদর্শক তদন্তদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মিরপুর মডেল থানার সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন। পুলিশ পরিদর্শক অপারেশনদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন কদমতলী থানার জাকির হোসাইন। শ্রেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার হাসানুর রহমান ও বাড্ডা থানার মোহাম্মদ হানিফ। শ্রেষ্ঠ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মতিঝিল থানার হেলাল উদ্দিন ও পল্লবী থানার মো. জামাল হোসেন।
ডিএমপির ৯টি গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গুলশান বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েন, চোরাই গাড়ি উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. কায়সার রিজভী কোরায়েশী, অস্ত্র উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বদরুজ্জামান জিল্লু, মাদকদ্রব্য উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. গোলাম সাকলায়েন, অজ্ঞান/মলমপাটি গ্রেফতারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন গোয়েন্দা রমনা বিভাগে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তরিকুর রহমান। ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে লালবাগ বিভাগ। শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হয়েছেন কোতোয়ালি ট্রাফিক জোনের বিমান কুমার দাস, শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হয়েছেন বাড্ডা ট্রাফিক জোনের মো. সাজ্জাদ হোসেন, শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট যৌথভাবে ট্রাফিক সার্জেন্ট হয়েছেন শাহবাগ ট্রাফিক জোনের জাফর ইমাম ও ডেমরা ট্রাফিক জোনের ইবনে ফিরোজ।
এছাড়াও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপির বিভিন্ন পদ মর্যাদার ৭৫ জন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির সব অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
