রাজশাহীতে ওষুধ স্প্রে করার পর শত শত বিঘা আলু গাছ পুড়ে যাওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৪১

রাজশাহীর তানোরে আলুর ক্ষেতে ওষুধ স্প্রে করার পর শত শত বিঘা জমিতে রোপণ করা আলুর গাছে পুড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, বায়ার কোম্পানির ওষুধ স্প্রে করার পর এমনটি ঘটেছে। এদিকে শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে ওই কোম্পানির কর্মকর্তারা ডিলারদের নিয়ে তানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সভা করেছেন। সভায় কৃষি কর্মকর্তাসহ ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন কৃষক উপস্থিত ছিলেন। 

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকরা দিশেহারার মতো হতাশা ও আতঙ্কে পৌষের ঠাণ্ডার মধ্যে প্রশাসন ও ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তারা আদৌও ক্ষতিপূরণ পাবেন কী না তা এখনো কেউ নিশ্চিত নন। 

তানোর উপজেলার শুকদেবপুর গ্রামের নাদের আলীর ছেলে প্রান্তিক আলু চাষী শামিম হোসেন বলেন, এবছর তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। সব ধরনের মোড়ক থেকে আলুকে রক্ষার জন্য শুক্রবার তিনি বায়ার কোম্পানির ওষুধ জমিতে স্প্রে করেন। কিন্তু পরের দিন শনিবার সকালে জমিতে গিয়ে দেখেন স্প্রে করা জমির সবগুলো আলুর গাছ পুড়ে গেছে। 

একই কথা বলেন তার সঙ্গ আসা একই গ্রামের ইয়াদ আলী ছেলে আসমত আলী। 

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, গোল্লাপাড়া বাজারের সৈয়ব আলী ট্রেডার্সের মালিক সৈয়ব আলী বায়ার কোম্পানির ডিলার। তার মাধ্যমেই বায়ার কোম্পানির ‘এন্টাকল’ নামক প্রতিষেধক ওষুধ জমিতে স্প্রে করার পর ৫০ থেকে ৬০ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র আলু চাষীর শত শত বিঘা জমির আলুর গাছ পুড়ে গেছে। 

আরো পড়ুন: রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় ফাঁসির দণ্ড থেকে মুক্ত হয়ে মামলার বাদি-সাক্ষীদের হুমকির অভিযোগ

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা, ক্ষতিপূরণে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভার সত্যতা স্বীকার বলেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি। 

এদিকে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। 

তানোর থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক আলু চাষীদের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া শত শত বিঘা জমির আলু গাছ পুড়ে যাওয়ার পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কী না সেটাও উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/এসি