বিজয়ের মাসে তারুণ্যের ভাবনা

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:০৯

 

বাঙালি জাতির আবেগ অনুভূতির একটি বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে ডিসেম্বর মাস। কেননা এ মাসেই বাঙালি জাতি পেয়েছিল

বহু বছরের লালিত স্বপ্নের স্বাধীনতা। মোটাদাগে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি বিশেষত্ব রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাঙালি

জাতিই প্রথম, যারা কি না সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পরাধীনতার শেকল ভেঙে বিজয় ছিনিয়ে আনে। আর এ বিজয়ে সে সময়ের তরুণদের

ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিজয়ের ৪৯ বছরের সুদীর্ঘ এ যাত্রায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে কী ভাবছেন বর্তমান সময়ের তরুণেরা? দেশকে

নিয়ে তাদের স্বপ্নই বা কী? বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কয়েক জন তরুণের এ ভাবনা তুলে ধরছেন— মোস্তাফিজ রাকিব

স্বা ধীনতার মাধ্যমে আমাদের অর্জিত সার্বভৌম ভূখণ্ড যেমন আমাদের রক্ষা করতে হবে, ঠিক তেমনি নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যও রক্ষা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল, বাংলাদেশ হবে সব ধরনের বৈষম্যমুক্ত, অন্যায়, অবিচার, শোষণমুক্ত এবং অসাম্প্র্রদায়িক সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক দেশ। আমরা কি সব মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছি? পাশাপাশি আমাদের প্রাপ্তির জায়গাও অনেক। স্বাধীনতার ৪৯ বছরে এসে আমাদের অন্যতম একটি বড় অর্জন নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মত প্রকাশের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে, রাজনৈতিক দলগুলো ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশকে প্রাধান্য দিবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এটাই প্রত্যাশা।

ইমন মাহমুদ

শিক্ষার্থী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

০০০

বি জয় মানেই আনন্দ। এ বছর আমাদের দেশের বিজয়ের ৪৯ বছর পূর্ণ হলো। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে, সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং আত্মদানের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে এ বিজয়। অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। বলা হয়ে থাকে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন, এ কথাটা অবশ্যই সত্যি। এজন্য এ স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হবে। তরুণ সমাজকে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হতে জানতে হবে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস। তাদের ভেতরে সৃষ্টি করতে হবে মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাই যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করে, তবে সোনার বাংলাদেশ গড়া মোটেও কঠিন হবে না। বিজয় দিবসে এটাই কাম্য, শুধু বিজয়ের মাসেই নয়; বরং সব সময়ই তরুণদের মধ্যে থাকুক দেশ নিয়ে ভাবনা। তরুণ প্রজন্ম সব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়ে বারবার পাকিস্তান বিজয়ের স্বাদ।

মুমতা হেনা মীম

শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

০০০০

বি জয়ের অর্ধশত বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা। ১৯৭১ সালে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা তাদের ত্যাগ এবং জীবনের বিনিময়ে এনে দিয়েছেন আমাদের এই স্বাধীনতা। তাদের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। তবে একটা বিষয় বারবার নাড়া দেয় আমায়। যে লক্ষ্যে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল সে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি আমরা! সে প্রশ্নটা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এই বছরে এসে যুক্ত হয়েছে আমাদের একটি বড় অর্জন। নিজেদের টাকায় আমরা করেছি আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এভাবে ধীরে ধীরে সবগুলো স্বপ্ন সত্যি হোক। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। সদা সর্বোচ্চ আসনে সমুজ্জ্বল থাকুক আমাদের লাল সবুজের পতাকা। এটাই কামনা। এটাই প্রত্যাশা।

মাহবুব এ রহমান

শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

০০০০

লা ল সবুজের পতাকা অর্জনের ৪৯তম বছরে আমরা আছি দাঁড়িয়ে। মুক্তিযুদ্ধে নানা পেশা, ধর্ম, বর্ণের মানুষ এক হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আর এতে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল তরুণ সমাজের। চোখে পড়ার মতো অনেক অর্জন আছে, তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী তা সামান্য বলা চলে। কোথাও একটা বৈষম্য রয়ে গেছে যা হয়তো বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ প্রাপ্তিতে বাধা দেয়। স্বাধীন দেশে বসবাস করেও দেশের সর্বস্তরের মানুষ এখনো বাক্স্বাধীনতা পায়নি। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন বেকার তৈরির কারখানা নামে পরিচিত হতে চলেছে। আমাদের বিজয়ের স্বাদ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন দুর্নীতির কবল থেকে দেশটি মুক্ত হবে? তরুণ সমাজ যেদিন হবে মাদকমুক্ত। শিক্ষা খাতে দুর্নীতি থাকবে না। সবমিলিয়ে প্রিয় দেশকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে নিতে প্রয়োজন সবাইকে কাঁধে কাঁধ রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হূদয়ে লালন করা এবং সেদিকে ধাবিত হওয়া।

আরোশি আঁখি

শিক্ষার্থী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

০০০

বি জয় শব্দটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাত্পর্য বহন করে। মহান মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১) থেকে বর্তমান সময় (২০২০) পর্যন্ত ৪৯টি বছর হলো বাংলার বিজয় ঘটেছে। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিল এই বিজয়। আর দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের পরবর্তী প্রজন্মের হাতে এই বিজয় রক্ষা করবার। বাংলাদেশের বিজয় পটভূমিতে রয়েছে বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশের এক অগ্রগামী অধ্যায়। শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়েছিল। বাংলাদেশের বিজয়ের যে মূল চেতনা তা এখন অনেকটাই অধরা রয়ে গেছে। আমাদের সেই লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে যাতে মুক্তিযুদ্ধে যারা যাদের সব বিসর্জন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন, তাদের সেই অধরা স্বপ্নগুলো পূরণ হয়। আমরা প্রত্যাশা রাখি যে, এক দিন বাংলাদেশ বিজয়ের মূল লক্ষ্যে পৌঁছবে এবং পুরো বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

মহিউদ্দিন রিফাত

শিক্ষার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।