অর্থ বরাদ্দের দুই বছরেও শুরু হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২৩

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় পদ্মপুকুর বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও দুই বছরে কাজ শুরু হয়নি। বগুড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার (দপ্তর) মুক্তিযোদ্ধা সুজ্জাত আলী, দুপচাঁচিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবার রহমান তালুকদার মুকুল, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম সরকার, সহকারী কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা বেলাল হোসেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, শহিদদের স্মৃতি রক্ষায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে দুই বছর আগে মন্ত্রণালয় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও আজ পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। তারা এ ব্যাপারে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে দুপচাঁচিয়ার তালোড়ায় হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প থেকে অজ্ঞাত দুই বাঙালিকে হাত ও চোখ বেঁধে আলোহালী গ্রামের পদ্মপুকুর পাড়ে আনা হয়। সেখানে তাদের গুলি করে হত্যার পর লাশ দুটি পুঁতে রাখা হলেও মাথা ও পা বাইরে ছিল। পরদিন সকালে গ্রামবাসী রাজাকার ও পাকিস্তান বাহিনীর ভয়ে তড়িঘড়ি করে লাশ মাটিচাপা দেন। চার দিন পর সন্ধ্যায় পাকিস্তানি সেনারা আরো চার জনের হাত ও চোখ বেঁধে সেখানে নিয়ে আসে। ব্রাশ ফায়ারে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দেয়। পরদিন গ্রামবাসীরা পুকুর থেকে চারটি লাশ উদ্ধার করে পুকুরের পূর্বপাড়ে মাটিচাপা দেন।

শহিদ চার জনের এক জন রবিয়া মণ্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মাজেদুর রহমান মোজাফফর রহমান জানান, তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসর রাজাকার-আলবদরদের সঙ্গে নিয়ে এবং শান্তি কমিটির সহায়তায় তাদের বাড়িঘর ঘেরাও করে। এরপর তার বাবা, ভাইসহ কয়েক জনকে ধরে নিয়ে পদ্মপুকুর পাড়ে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই ধরনের কথা বলেন, উনাহত সিংড়া গ্রামের শহিদ তছলিম উদ্দিনের ভাই মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিন। তিনি জানান, শহিদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি চেয়ে বিভিন্ন সময় সরকারের কাছে আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছেন।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান মুকুল জানান, পদ্মপুকুর পাড়ে গণকবরগুলো সংস্কার ও সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রয়োজন। সংস্কারের অভাবে স্মৃতিফলকটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। তারা মহান বিজয়ের মাসেই গণকবরগুলো সংস্কার ও সীমানাপ্রাচীর দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। আলোহালী গ্রামের পদ্মপুকুর পাড়ে ছয় বীর বাঙালির স্মৃতি রক্ষার্থে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। দুই বছর আগে টাকা এলেও আজ পর্যন্ত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হয়নি। দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম জাকির হোসেন জানান, তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। সুস্থ হওয়ার পর অফিসে গিয়ে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেবেন।