ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে পোশাকশ্রমিকদের অনীহা

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৩০

সানেমের জরিপ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য গার্মেন্টস খাতে দেওয়া সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ কারখানাগুলোকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন প্রদানে উত্সাহিত করেছে। তবে কিছু কারখানা আবার নগদ অর্থে বেতন প্রদানের দিকে ফিরে যাচ্ছে। এর একটি কারণ হলো—ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন গ্রহণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকদের অনীহা। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজের (এমএফও) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে সানেম জানিয়েছে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউটের চার্জ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ধারণার অভাব, মোবাইল না থাকা, স্বামীর নামে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকায় উপার্জিত অর্থ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কমে আসা ইত্যাদি বিষয়কে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন গ্রহণের ক্ষেত্রে অনীহার কারণ হিসেবে শ্রমিকরা চিহ্নিত করছেন।  

বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়ন করতে, সানেম ও এমএফও গত এপ্রিল থেকে ১ হাজার ৩৭৭ জন শ্রমিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে জরিপ চালিয়ে আসছে। প্রতি সপ্তাহে একই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়। জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত।

সমীক্ষায় সাধারণ প্রবণতা হিসেবে দেখা গিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে শ্রমিকদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে এবং পরবর্তী মাসগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন প্রদানের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে এসেছে। চলতি বছরের মে মাসের আগে কিছু কারখানা বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে ডিজিটাইড হয়েছিল, কিছু কারখানা সাময়িক সময়ের জন্য ডিজিটাইজড হয়েছিল, আর কিছু কারখানা কখনোই ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন প্রদান করেনি। তৈরি পোশাক শিল্পে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক ৩৭ শতাংশ কারখানা ডিজিটাল পদ্ধতিতে শ্রমিকদের বেতন প্রদান করত। মে মাসে এই প্রবণতা বেড়ে ৮৫ শতাংশ হয়েছে। জুলাই মাসে ৮৭ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৭৬ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৭৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। অপরদিকে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন কারখানার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন প্রদানের হার জুন মাসে ছিল ৬০ শতাংশ, জুলাই মাসে ছিল ৫৪ শতাংশ, আগস্ট মাসে ছিল ৪৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৪০ শতাংশ।