কৃষককে কেবল ঝড়, বন্যা নয়—অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কৃষক যে মুলা দেড় থেকে দুই টাকা কেজি বিক্রি করে, সে মুলা কয়েক হাত ঘুরে ভোক্তা বিশ টাকা কেজিতে ক্রয় করেন। ফড়িয়া, পাইকার ও দালালসহ একটা মধ্যবর্তী চক্র গড়ে উঠেছে—যারা অসাধুভাবে মুনাফা অর্জন করে। এমনও হয়, মূলধন না খাটিয়েও কেউ কেউ টাকা তুলে নেন। মধ্যস্বত্বভোগী এই অসাধু চক্রের অপতত্পরতার কথা কে না জানে। সবাই জানে। বছরের পর বছর এইভাবে কৃষককে ঠকানো হচ্ছে। কৃষককে লাভবান করার উদ্যোগ নেই। ছাদে, বেলকোনিতে যাঁরা শখে সবজির চাষ করেন, তাঁরা জানেন এক কেজি সবজি ফলাতে কৃষকের কতোটা পরিশ্রম হয়। কতটা রোদে পুড়তে, বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। হাতবদলে মুনাফা ছাড়াও খাজনা ও স্থানভাড়া, শ্রমিকখরচ, পরিবহনখরচ, পথে পথে পুলিশ, পৌরসভা ও বিভিন্ন সংগঠনের চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ফেরিভাড়া ইত্যাদি দাম বৃদ্ধির কারণ। এই জায়গাগুলোতে সরকারি কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। পথে পথে চাঁদাবাজি হলে সবজির দাম কেজিতে প্রায় দশ টাকা কমে আসে। আড়তদার ইচ্ছেমতো সবজির দাম নির্ধারণ করেন। কে দেখবে এসব? খুচরা বিক্রেতাও সেরকমই করেন। ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করেন। কারণ ভোক্তা এখানে একরকম অসহায়। এভাবে কৃষক থেকে ভোক্তা চেইনের প্রতিটি পয়েন্টে সমস্যা রয়েছে। সবজির দাম বাড়ে। পাইকার দোষ দেন খুচরা ব্যবসায়ীকে। খুচরা ব্যবসায়ী দোষ দেন পাইকারকে। অথচ দাম বাড়ার পেছনে উভয়েই দায়ী। কৃষক যেন লাভবান হন—সবার আগে সব থেকে বেশি দেখা দরকার সেটা। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। কৃষিবিজ্ঞানীরা নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করছেন। ফসল উত্পাদন বৃদ্ধির পিছনে এটি একটি কারণ। কৃষি উপকরণে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। সবই হচ্ছে। হচ্ছে না কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন। এদিকে সবজির দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। কৃষক ফসলের ঠিক দাম পেলে সে উত্সাহ পাবে। এ কথা না ভেবে উপায় নেই।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
বাড়ি ১০২ , সড়ক ১১, বনানী, ঢাকা
