অনেক পরিবার আশ্রয়হীন বাস করছে মাত্র ৫৬টি

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪২

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্মা সীমান্ত এলাকার বনশ্রী আদর্শ গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পটি পাথরখেকো চক্রের লোলুপদৃষ্টিতে পড়ে ইতিমধ্যে প্রকল্পের অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। অবশিষ্টগুলোকেও উচ্ছেদের পাঁয়তারা চলছে। চক্রটি উত্মা কমলাবাগান ও মাজেরগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন করে এবং সেখানে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয়। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে উত্মা বাজারের সঙ্গে ঐ গ্রামের সংযোগ সড়কটি এখন বিলীনের পথে। তবে আদর্শ গ্রামের কেউ কেউ নিজের ঘর ও বাড়ির আঙিনা থেকেও পাথর উত্তোলন করে বিক্রয় করছে—এজন্য এলাকাবাসীর সচেতনতা কমনা করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য্য বলেন, লিজ বহির্ভূত এলাকায় পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সূত্র জানায়, ২০০২ সালে কোম্পানীগঞ্জের উত্মা গ্রামে স্থাপিত হয় গৃহহীনদের পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প। তখন ১০০ ভূমিহীন পরিবারকে ২২ দশমিক ৭৫ একর ভূমি প্রদান করা হয়। এখন সেখানে বসবাস করছে মাত্র ৫৬টি পরিবার। শুরু থেকেই ঐ ভূমির ওপর লোলুপদৃষ্টি ছিল স্থানীয় পাথরখেকো চক্রের। ২০০৫ সালে ১১ পাথর খেকোকে চিহ্নিত করে থানায় মামলাও দায়ের করে কোম্পানীগঞ্জ ভূমি অফিস। চক্রটি আবারও অবৈধ পাথর উত্তোলনে বসবাসকারীদের উচ্ছেদে নেমেছে।

এদিকে গত ২৩ নভেম্বর সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম উত্মা এলাকা পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করা হচ্ছে।  জেলা প্রশাসক লিজ বহির্ভূত জায়গা থেকে যাতে কেউ পাথর উত্তোলন করতে না পারে সেজন্য উপস্থিত বিজিবি সদস্যদের নির্দেশ দেন। 

অন্যদিকে বনশ্রী আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা কলছুমা আক্তার গত ২৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসক ও কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও বরাবর অভিযোগে বলেন, আদর্শ গ্রামের কয়েক জন তাকে সরকারের দেওয়া এই জায়গা থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ২২ নভেম্বর এই চক্রটি তার বাড়িতে  হামলা করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও পাঁচটি গরুসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে যায়। তিনি  বলেন, তাদের উচ্ছেদ করতে পাথরখেকো চক্রটি নানা কৌশল করছে। তাই তারা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।