চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বে-টার্মিনাল প্রকল্প সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে তা দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে চবকের ১৪তম উপদেষ্টা কমিটির সভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংসদ সদস্যবৃন্দ, চট্টগ্রামের সরকারি বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বন্দর ব্যবহারকারী সংস্থাসমূহের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর অডিটরিয়াম মিলনায়তনে মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রামের বাইরে থেকে ভার্চুয়ালিও অনেকে সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শেখ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো গতিশীল করতে এর সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। সভায় চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোসমূহ ২০ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নেওয়ার পূর্বেকার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের অচলাবস্থা নিরসনসহ এর দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামবাসীকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
সভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বে-টার্মিনালকে ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে বন্দরে প্রথমে নিজস্ব অর্থায়নে একাধিক টার্মিনাল নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তাব করেন। তিনি যত্রতত্র বন্দর নির্মাণ না করার কথা বলেন। সভায় সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বে-টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মীরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় পোর্ট নির্মাণের প্রস্তাব করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী চট্টগ্রাম তথা দেশের উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নাসির উদ্দিন চৌধুরী বন্দর থেকে গার্মেন্টস পণ্য খালাসের সময় চার দিনের স্থলে এক-দুই দিনে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান। তিনি অনেক শিপিং কোম্পানির বিভিন্নমুখী চার্জ আদায় বন্ধ এবং বে-টার্মিনাল ও ডেলিভারি ইয়ার্ড দ্রুত নির্মাণের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তৃতায় নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, লয়েড লিস্টে চট্টগ্রাম বন্দর আগামী তিন বছরের মধ্যে ৫৮ থেকে ৩০-এ উন্নীত হবে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামবাসীর দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে যোগ্য লোকদের নিয়োগে বর্তমান সরকারের পলিসির কথা জানান।
