বাংলাদেশও যুদ্ধবিমান তৈরিতে একদিন সক্ষম হবে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। এর মাধ্যমে বিমান চলাচল, বিমান নির্মাণ, গবেষণা, মহাকাশবিজ্ঞান চর্চা হবে। আমি আশা করি, এর মাধ্যমে একদিন হয়তো বাংলাদেশ যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান এবং হেলিকপ্টারও তৈরি করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।’ এছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে একদিন মহাকাশে যাওয়াও সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

গতকাল রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি, যশোরে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০২০ (শীতকালীন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান     বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে তার সরকারের আরো আধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিমান বাহিনীকে উন্নত ও আধুনিকায়নে ভবিষ্যতে আরো আধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, বিমান বাহিনীতে শিগিগরই যুক্ত হবে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিক্যাল সিস্টেম, মোবাইল গ্যাপ ফিলার র্যাডার এবং সর্বাধুনিক এয়ার ডিফেন্স রাডার। ‘জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে তার সরকার বিমান বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় আধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিমান, হেলিকপ্টার, রাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র এবং মুখ্য যন্ত্রপাতি সংযোজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যাধুনিক পাঁচটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে, যার তিনটি বিমান ইতিমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। বৈমানিকদের উন্নততর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে আরো সাতটি অত্যাধুনিক কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমান সংযোজন করা হয়েছে এবং অচিরেই যুক্ত হতে যাচ্ছে পিটি-৬ সিমুলেটর। তিনি বলেন, ‘এখন হয়তো কোভিড-১৯-এর কারণে আমরা বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারছি না। তবে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে বিমান বাহিনীকে আরো যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা।’

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট উপভোগ করেন। এ সময় তাকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৭৭তম বাফা কোর্স এবং ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২০ কোর্স সম্পন্নকারীদের মধ্যে ফ্লাইং ব্যাজ, ট্রফি এবং অন্যান্য পুরস্কার বিতরণ করেন। স্কোয়াড্রন জুনিয়র অফিসার শাকিল আহমেদ শ্রেষ্ঠ চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে অনুষ্ঠানে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন।

‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, ‘এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, দেশের মানুষের কল্যাণ করা এবং সার্বিক উন্নতি করাটাই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কাজেই আমাদের বিমান বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য এবং বিশেষ করে নবীন ক্যাডেট যারা, তাদের সবাইকে আমি বলব, আমরা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জনকারী একটি দেশ ও জাতি। সে কথা মনে রেখেই বুকে সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে চলতে হবে।’ 

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে সে সময়েই জাতির পিতা তার দূরদর্শী চিন্তাশক্তির আলোকে আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার যে প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন, তার দৃষ্টান্তও অনুষ্ঠানে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সেই লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করেছিলেন জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্ফান-পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য আমি এ বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে অভিনন্দন জানাই। তাছাড়া করোনা রোগীদের দ্রুত ঢাকায় নিয়ে এসে দ্রুত চিকিত্সার ব্যবস্থা করা, সেটাও বিমান বাহিনী করেছে।’ তিনি বলেন, বিমান বাহিনীর মাধ্যমে বন বিভাগের সহায়তায় নিঝুম দ্বীপ ও ডোমার চরে ও ভবিষ্যতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উন্নতমানের গাছের বীজ বপনের মাধ্যমে যে সবুজ বিপ্লব সূচিত হতে যাচ্ছে, তা দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে।