এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরমের সংলাপ

করোনার ভ্যাক্সিন বণ্টনে বৈষম্য দূর করতে হবে

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০৮

সম্প্রতি করোনার প্রতিষেধক বাজারে আসা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ধনী দেশগুলো বিপুল পরিমাণে অগ্রীম প্রতিষেধক কিনে নিচ্ছে। সেজন্য ভ্যাকসিন প্রাপ্তির প্রাধিকার নির্ধারণে বৈষম্য দূর করা এবং মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা একান্ত প্রয়োজনীয়।

গতকাল ‘কোভিড-১৯ টিকা :বাংলাদেশে কখন কীভাবে পাবে?’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ। সহ-আয়োজক ছিল বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ। নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক।

মূল প্রতিবেদনে বলা হয়, ধনী দেশগুলোতে বিশ্ব জনসংখ্যার মাত্র ১৪ শতাংশ বাস করে, কিন্তু বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা করোনার অর্ধেক ভ্যাক্সিন ইতিমধ্যে তারা কিনে নিয়েছে। এতে ২০২১ সালের মধ্যে করোনার ভ্যাক্সিন থেকে বঞ্চিত হবে দরিদ্র মানুষেরা। ভ্যাক্সিন নিয়ে উন্নত দেশগুলোর এমন জাতীয়তাবাদ অন্য দেশগুলোকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের দিকে ঠেলে দেবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, করোনার ভ্যাক্সিন নিয়ে প্রশাসনিক জবাবদিহি রাখতে হবে। নাগরিক জবাবদিহি থাকতে হবে। বেসরকারি খাতে ভ্যাক্সিন আমদানির অনুমতি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক। তিনি বলেন, যাদের সামর্থ্য আছে তারা যাতে দ্রুত এই ভ্যাক্সিন পেতে পারে, সেজন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে করোনার ভ্যাক্সিন আমদানির অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।

আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. ফেরদৌসী কাদরি বলেন, করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়া গেছে ১০ মাসের মধ্যে। এ কারণে এই ভ্যাকসিন ব্যবহারে কিছুটা ঝুঁকি থাকবে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, করোনা ভাইরাসের টিকা প্রয়োগ নিয়ে একটা বিশৃঙ্খলা হবে। এখন যাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে তারা না পেয়ে ক্ষমতাবানেরা প্রথম টিকা পাবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অ্যান্টিবডি কিট উদ্ভাবক ড. বিজন শীল বলেন, করোনা ভাইরাসের টিকার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে টিকাটি কাকে দেওয়া যাবে, সেটি আগে চিহ্নিত করতে হবে। ইউনিসেফের কোল্ড চেইন স্পেশালিস্ট হামিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য সুষ্ঠু নীতিমালা ও তার বাস্তবায়ন আবশ্যক।