পিডিবি চট্টগ্রাম জোনে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুতের বিল বাবদ প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়ার পরিমাণ ক্রমশ প্রতি মাসে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পিডিবির কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় গ্রাহকদের কাছে বকেয়া পড়ে রয়েছে এবং বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ হচ্ছে না। পিডিবি জানায়, প্রিপেইড মিটারের কারণে বিদ্যুতের সাশ্রয় ও গ্রাহকেরা উপকৃত হচ্ছেন। নতুন প্রকল্প গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে পিডিবি চট্টগ্রাম জোন গঠিত। চট্টগ্রাম জোনে প্রায় ১১ লাখ ৩৮ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। বছরে প্রায় ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকার বিলিং হয়ে থাকে। পিডিবি জানায়, রিমোট মিটারিং, পোস্টপেইড ও প্রিপেইড মিটারিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিদ্যুত্ ব্যবহার করছেন। প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। এসব গ্রাহক তাদের চাহিদা অনুপাতে মিটার রিচার্জ করে বিদ্যুত্ ব্যবহার করছেন। এই নিয়ে গ্রাহক বা পিডিবির কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পোস্টপেইড মিটারের গ্রাহকেরা পিডিবির লোকজনের সহযোগিতায় নিয়মবহির্ভূত সুবিধা ভোগ করছেন।
পিডিবি মাতারবাড়ী বিতরণ বিভাগে প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছে। প্রকল্পের আওতায় এসব মিটার বসানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, প্রিপেইড মিটার বসানোর আগে আমার বিতরণ বিভাগে দৈনিক ২০ মেগাওয়াট বিদুতের চাহিদা ছিল। এখন চাহিদা ১৮ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। প্রিপেইড মিটারের কারণে গ্রাহকেরা যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি বিদুতের সাশ্রয় হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় প্রিপেইড মিটার শুধু চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যে বসানো হয়েছে। ফলে ৭ লাখের বেশি গ্রাহক এখনো প্রিপেইড মিটারের বাইরে রয়েছে। পিডিবি হাটহাজারী বিতরণ বিভাগে প্রায় ৪৭ হাজার বিদ্যুত্ গ্রাহক রয়েছেন। গত নভেম্বর মাস থেকে নতুন গ্রাহকদের সংযোগ প্রদানের সময় নিজ উদ্যোগে প্রিপেইড মিটার বসাতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকের মিটার প্রতি ৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এ খরচ এড়ানোর কারণে গ্রাহকদের অনুমাননির্ভর ও ভুয়া বিলের অভিযোগ নিয়ে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের বলেন, পিডিবিতে মিটার রিডার পদে স্থায়ী জনবল নেই। কমিশনের ভিত্তিতে কিছু লোকের মাধ্যমে মিটার থেকে রিডিং সংগ্রহ করে গ্রাহকদের বিল দেওয়া হচ্ছে। এই কাজে ২৮-৩০ জন লোক নিয়োজিত রয়েছে। বিল নিয়ে কোনো অভিযোগ এলে আমরা তা সংশোধন করে দিচ্ছি। আমরা গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার বসানোর জন্য উৎসাহিত করছি।’
পিডিবি বাকলিয়া বিতরণ বিভাগে ৮৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৫১ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজুল হক বলেন, প্রিপেইড মিটারে গ্রাহক নির্ধারিত কিলোওয়াটের বেশি বিদ্যুত্ ব্যবহার করতে পারে না। কিন্তু পোস্টপেইডে বিদ্যুৎ আটকানো যায় না।’
পিডিবিতে মিটার রিডিং পদে দীর্ঘদিন যাবৎ জনবল নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অস্থায়ী লোকদের মাধ্যমে বিল তৈরির কাজ করতে গিয়ে অনুমাননির্ভর ও ভুয়া বিল নিয়ে গ্রাহক হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না।
চট্টগ্রামে বিদ্যুত্-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির জন্য দুটি আদালত রয়েছে। এ দুটি আদালতে বর্তমানে বিদ্যুত্ আইনে দায়ের হওয়া ১ হাজার ১১৬টি মামলা পেন্ডিং রয়েছে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ও বকেয়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পিডিবির কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। পিডিবি তাদের অফিশিয়াল তথ্যে সিস্টেম লস প্রায় ৮ শতাংশে নেমে এসেছে দাবি করলেও বাস্তবে তার কয়েক গুণ বেশি সিস্টেম লসের নামে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
