আওয়ামী লীগ চিরদিনের জন্য জনগণের মন থেকে চলে গেছে -------- মির্জা ফখরুল

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৫০

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নয়, আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির নির্বাচনে একটি কাজ হয়েছে, আওয়ামী লীগ চিরদিনের জন্য জনগণের মন থেকে দূরে চলে গেছে। পরাজয় আমাদের হয়নি। পরাজয় হয়েছে আওয়ামী লীগের, নৈতিকভাবে তাদের পরাজয় হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, পরাজয় মনে করলেই পরাজয়। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমগ্র দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে। আমাদের ভাইদের মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত দলের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। হতাশার কোনো জায়গা নেই। এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। শহীদ জিয়া আমাদের সে শিক্ষা দিয়েছেন। যারা হতাশ, তারা কখনো জিয়াউর রহমানের অনুসারী হতে পারে না। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন।

দলের স্থায়ী কমিুিটর সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নয়, ২৯ ডিসেম্বর রাতেই নির্বাচন হয়েছে। আজকে দশ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ এতো ‘উন্নয়ন’ করেও ভোট ডাকাতি করেছে। কারণ তারা বিএনপিকে ভয় পায়।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। সম্পূর্ণ নীল নকশার নির্বাচন হয়েছে। কোনোভাবেই সংবিধান সম্মত নির্বাচন হয়নি। জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। বিদেশি গনমাধ্যমের দিকে তাকালে দেখবেন সবাই একই কথা বলছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমি হতাশ, হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি এবারের নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেখে। দুইটি কারণে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তার একটি ছিল- নির্বাচনে গেলে হয়তো একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হবে এবং বিএনপির এই যে হাজার হাজার লাখ, লাখ নেতাকর্মী উজ্জীবিত হবে। ফলে দলের ভেতরে গতি সঞ্চারিত হবে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে- আমরা সবাই জানি যে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কিন্তু সেই জায়গা থেকে অন্তত পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচনের চেষ্টা সরকার করবে এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আগামীতে দলের করণীয় প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, এখন দলকে পুনর্গঠন ও নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের যাদের বয়স হয়েছে তারা সরে যাবো।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ও আবদুস সালাম আজাদের যৌথ পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আবদুল মান্নান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর বীরবিক্রম, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আহমেদ আযম খান।