জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার হলো পুলিশের খোয়া যাওয়া পিস্তল

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৫১

লেখক জুলহাস মান্নান ও মাববুব রাব্বী তনয় হত্যা মামলার প্রধান আসামি জঙ্গি আবদুল্লাহকে গ্রেফতারের পর আরেক জঙ্গির আস্তানা থেকে ৩ বছর আগে পুলিশের খোয়া যাওয়া পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) একটি টিম গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল্লাহর দেওয়া তথ্যে টঙ্গীতে জঙ্গি আসাদুল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পিস্তলটি উদ্ধার করে। ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাড্ডার সাঁতারকুলে একটি আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে পাল্টা হামলার শিকার হয়ে পুলিশের ওই অস্ত্র খোয়া যায়। গত মঙ্গলবার টঙ্গী থেকে আবদুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের বাড়িতে ঢুকে  জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জুলহাসের বড় ভাই মিনহাজ মান্নান কলাবাগান থানায় এ মামলা করেন। ওই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল আনসার আল ইসলামের টিম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মহিবুল ইসলাম খান জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিটিটিসির একটি দল  জঙ্গি আসাদুল্লাহর টঙ্গীর বাসা থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। টঙ্গী থেকে ঢাকায় এসে জুলহাস মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয়কে হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছিল জঙ্গি আবদুল্লাহ। এর পর থেকে সে পলাতক ছিল। গত মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতারের পর রিমান্ড হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের অস্ত্র লুট ও সেই অস্ত্র নিজ বাসায় রাখার তথ্য জানায় আবদুল্লাহ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে।

সিটিটিসির একটি সূত্র জানায়, জুলহাস মান্নান ও মাহবুব তনয়কে হত্যার আগে আবদুল্লাহসহ জঙ্গিদের একটি দলকে গ্রেফতারে ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাড্ডার সাঁতারকুলে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালায়। জঙ্গিরা পুলিশের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এতে পরিদর্শক বাহাউদ্দীন গুরুতর আহত হন ও পুলিশের ব্যবহূত বুলেটসহ পিস্তল জঙ্গিরা ছিনিয়ে নেয়। ওই আস্তানা থেকে পুলিশ দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করলেও সে সময় অস্ত্রটি নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় জঙ্গি আবদুল্লাহ। এরপর একই বছরের ২৫ এপ্রিল ওই অস্ত্র নিয়ে জুলহাস মান্নান ও মাহবুব তনয়কে হত্যার নেতৃত্ব দেয় আবদুল্লাহ। এরপর থেকে গত প্রায় ৩ বছর ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল আব্দুল্লাহ।