ফসলি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:১৬

ফসলি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়। কমছে আবাদি জমি ও ফসল। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে খাদ্য ভান্ডার ও  পরিবেশ-প্রকৃতিতে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক। খবর সংবাদদাতাদের।

ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ধামরাইয়ে ফসলি জমি দিন দিন কমে যাওয়ায় চাষবাস কমে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে সার ও কীটনাশকের চাহিদা। তাই দুর্ভাবনায় পড়েছেন সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীরা। অনেকেই ব্যবসা পরিবর্তনের কথাও ভাবছেন। একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে আবাদি জমি কমে গেছে। তাই চাষাবাদ কমে যাওয়ায় বেচাবিক্রিও কমে গেছে। মাটি কাটা বন্ধ না হলে ব্যবসা বদলাতে হবে।

ধামরাইয়ে প্রায় দুই শতাধিক ইটভাটা রয়েছে, যার অধিকাংশই অপরিকল্পিত ও অবৈধ। এসব অবৈধ ইটভাটার মাটির চাহিদা পূরণ করতে মাটি ব্যবসায়ীরা নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির মাটি কেটে ঐ সব ইটভাটায় সরবরাহ করছে। ফলে শতশত বিঘা জমির চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনের চোখের সামনেই বছরের পর বছর ধরে ইটের ভাটার মাটির চাহিদা পূরণ করতে ফসলি জমি বিনষ্টের ধারা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার জালসা, বেলীশ্বর, বাস্তা, বালিয়া, কুশুরা, মহিষাশী, ভালুম, কালামপুর, শ্রীরামপুর, সূতিপাড়া, নওগাঁও, বাথুলী, বরাটিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি বিনষ্টের চিত্র চোখে পড়ে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, চাষাবাদের স্বার্থে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ হওয়া দরকার।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, কালিয়াকৈরে অবৈধভাবে  কৃষিজমির মাটি কেটে মিল-কারখানায় পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, উপজেলার কালিয়াকৈর পৌরসভার শ্রীফলতলী গ্রামের দক্ষিণ পাশে দুই ফসলি  জমির মাঠ রয়েছে। ঐ জমিতে প্রতি বছর সরিষা ও বোরো ধান আবাদ করা হয়। জমির একশ গজ দূরেই রয়েছে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেলওয়ে মহাসড়ক। স্থানীয় এক শ্রেণির অসত্ ব্যবসায়ী জমির মালিক কৃষকদের ফুঁসলিয়ে ঐসব জমির মাটি ক্রয় করে। তার পর ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে ট্রাকে ভর্তি করে স্থানীয় মিল-কারখানায় অধিক মূল্যে পাচার করছে। কালিয়াকৈর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদনান চৌধুরী বলেন, অবৈধভাবে মাটি কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।