জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এবার দুই ধাপ এগিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে বাংলাদেশের। তবে এই অগ্রগতি ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রতিবেদনটির বাংলাদেশ অংশের মোড়ক উন্মোচনকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আত্মতুষ্টিতে না ভুগে উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা ভালো করেছি, এটা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে কিছু জায়গায় সেভাবে ভালো করতে পারিনি। সেক্ষেত্রে আমাদের উন্নতি করতে হবে।
ইউএনডিপি গত ১৫ ডিসেম্বর ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০২০’ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, ১৮৯ দেশের মধ্যে এবার বাংলাদেশ দুই ধাপ এগিয়ে ১৩৩তম স্থানে উঠে এসেছে। এর আগের বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৫তম।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাডভাইজার বালাজ হোবার্থ প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক সলীমুল হক, সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন সামিয়া হক প্রমুখ।
এ সময় বালাজ হোবার্থ বলেন, সূচকে অগ্রগতির সঙ্গে বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ বহুমুখী দারিদ্র্যের শিকার, ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বহুমুখী দারিদ্রের দিকে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে নীতিনির্ধারকদের মনযোগ দেওয়া দরকার। তবে, দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে এটাও গত কয়েক দশক থেকে অনেক অগ্রগতি। তিনি বলেন, অগ্রগতি হলেও ২০১৯ সালের বাংলাদেশের মানব উন্নয়ন সূচকের মান ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। আর নারীর ক্ষেত্র সে মান পুরুষের তুলনায় ১০ শতাংশ কম।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত ১০-১২ বছর ধরে আমরা জিডিপিতে ধারাবাহিক অগ্রগতি সাধন করছি। তার মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা যে পন্থায় যাচ্ছি, তাতে পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। এখন প্রয়োজন প্রান্তিক অঞ্চল ও গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। তবে অনেক ক্ষেত্রে অন্যায় বৈষম্য জেঁকে বসে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অন্যায়গুলোকে আমাদের দূর করতে হবে।
