করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত রাজধানীর তিন বড় হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) বেড খালি নেই। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) থাকা যথাক্রমে ১৬ শয্যা, ১০ শয্যা, ১০ শয্যা ও ১৬ শয্যার প্রতিটিতে রোগী ভর্তি আছে। কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে জটিল রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, করোনা রোগীদের ৮০ শতাংশের মধ্যে মৃদু লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের হাসপাতালে যেতে হয় না। বাকি ২০ শতাংশের মধ্যে ১৫ শতাংশের উপসর্গ তীব্র হয় এবং হাসপাতালে যেতে হয়। বাকি ৫ শতাংশের অবস্থা থাকে জটিল, তাদের আইসিইউ বেডের পাশাপাশি দরকার হয় ভেন্টিলেটর। রাজধানীর বড় তিন হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি না থাকায় এখন রোগীরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে। সংক্রমণের মাঝের সময় জুন-জুলাইয়ের দিকে আইসিইউ না পেয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তারপর থেকে সংক্রমণের হার কমার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ও সাধারণ শয্যা ফাঁকা হতে শুরু করে। শয্যা ফাঁকা থাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল কমিয়ে আনে। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা বলেন, ভাইরাস আগের চেয়ে আরো বেশি তীব্রতা নিয়ে আক্রমণ করছে। এ কারণে আইসিইউ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আবার ঢাকার বাইরে থেকেও জটিল রোগীদের ঢাকায় রেফার করা হচ্ছে। কারণ ঢাকার বাইরে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা তত উন্নত নয়। এ কারণে ঢাকায় রোগীদের ভিড় বাড়ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নির্ধারিত জেনারেল ও আইসিইউ কোনো বেডই গতকাল খালি ছিল না। বরং বাড়তি আরো রোগীকে মানবিক কারণে বিশেষ ব্যবস্থায় ঠাঁই দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কুর্মিটোলা হাসপাতালের চিত্রও অভিন্ন। অন্যদিকে রাজধানীর উত্তরায় কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল এবং প্রাইভেটগুলোর মধ্যে ইবনে সিনা হাসপাতাল ও বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউ বেডগুলোও শতভাগ পূর্ণ কোভিড রোগীতে। যদিও অন্য হাসপাতালগুলোতে জেনারেল বেড তুলনামূলক ফাঁকা থাকলেও সেগুলোতে গত এক মাসে আগের তুলনায় রোগী বেড়েছে।
শুধু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়াই নয়, অন্যান্য ভোগান্তি ও সমস্যাও আবার বেড়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে। কোনো কোনো হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের একধরনের উদাসীনতার নজির দেখা গেছে। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে প্রবেশপথের মুখে বসে থাকা রুবানা হক জানান, কয়েক দিন ধরেই জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে, তাই হাসপাতালে আসা। মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গতকাল বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, কোভিড টেস্টের জন্য বসে আছে ১৫ জনের মতো। সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে আরো ছয়-সাতজন।
এদিকে বাস্তবে তিন হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি না থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেখানো হচ্ছে, অন্যান্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ফাঁকা রয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যার সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৪টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৬০ জন ও শয্যা খালি আছে ১ হাজার ৫২৪টি। আইসিইউর শয্যাসংখ্যা ২৮৬টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি রোগী আছে ১৯৯ জন এবং শয্যা খালি আছে ৮৭টি। সারা দেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যাসংখ্যা ৬ হাজার ৪৮৯টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগী ৬৫৯ জন এবং শয্যা খালি আছে ৫ হাজার ৮৩০টি। আইসিইউতে শয্যা রয়েছে ২৩৭টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৭৮ এবং শয্যা খালি আছে ১৫৯টি। সারা দেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যাসংখ্যা ১০ হাজার ৪৬০টি, রোগী ভর্তি আছে ২ হাজার ৭০৮ জন এবং শয্যা খালি আছে ৭ হাজার ৭৫২টি। সারা দেশে আইসিইউ শয্যাসংখ্যা ৫৬৮টি, রোগী ভর্তি আছে ২৯৭ জন এবং খালি আছে ২৭১টি। সারা দেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১৩ হাজার ১৯২টি। সারা দেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলার সংখ্যা ৬৬৭টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৬১৪টি।
