অর্থপাচারে জড়িত দ্বৈত নাগরিকদের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৫৬

দেশ থেকে দুর্নীতি ও অর্থপাচার করে যারা বিদেশে বাড়ি নির্মাণ বা ক্রয় করেছে তাদের মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব বা পাসপোর্টধারীদের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি এ ধরনের নাগরিকদের মধ্যে যারা অনবরত বিদেশে যাওয়া আসা করছেন তাদের তালিকাও দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখার সুপারকে (ইমিগ্রেশন) এ তালিকা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেয়।

গত ২২ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে বিদেশে অর্থপাচার করে যারা গাড়িবাড়ি করেছে তাদের তালিকা চেয়েছিল। একইসঙ্গে এসব অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চায় আদালত। কিন্তু গত ১৭ ডিসেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে তথ্য দাখিল করা হয়। সেখানে অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলার একটি তালিকা দিলে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। আদালত বলেন, আমাদের পুরোনো কাহিনি শুনিয়ে কোনো লাভ নেই। নতুন কী তথ্য আছে সেটা দিন। যারা কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার করে গাড়িবাড়ি করেছে তাদের বিচারটা করা না গেলেও নামটাও কি দেশের জনগণ জানতে পারবে না। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল হাইকোর্ট অর্থ পাচারকারীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও দ্বৈত পাসপোর্টধারীদের তালিকা তলবের আদেশ দেয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক শুনানি করেন। দুদক কৌসুলি আদালতে বলেন, এ ধরনের তালিকা পেলে অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। আদালত বলেন, দ্বৈত নাগরিক ও পাসপোর্টধারী কারা, সেটা আমরাও জানতে চাই। দ্বৈত পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যাতায়াতকারীদের তথ্য জানা প্রয়োজন।