পল্লবীর তালতলা বস্তিতে আগুন, পুড়েছে ৫৫ ঘর

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২০, ২৩:০০

কিছু দিন পর পরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার পুড়ল রাজধানীর মিরপুরের কালশীর তালতলা বস্তি। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বস্তিটিতে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বস্তিটির ৫৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাত্ক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মাসখানেক আগে এই বস্তির অন্য প্রান্তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। তখন অন্তত তিন শতাধিক ঘর পুড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর ২টার দিকে কালশী নাভানা টাওয়ারের পেছনে তালতলা বস্তিতে  অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। প্রথমে বস্তিবাসীরা নিজ উদ্যোগে পানি ও বালু ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

তালতলা বস্তির বাসিন্দা ছোটন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কেউ কিছু নিয়ে বের হতে পারেননি। কোনো রকমে নারী ও শিশুদের নিয়ে বের হয়েছি। বস্তির অনেকে গরু-হাঁস-মুরগি পালন করতেন। আগুনে গৃহপালিত পশু পুড়ে মারা গেছে।

বস্তির বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, গত মাসেও বস্তির অন্য মাথায় (কালশী বস্তি) আগুন লাগে। এবার এই বস্তি পুড়ে গেল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলাম বলে বিলাপ করতে         থাকেন তিনি।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, দিনের বেলায় আগুন লাগায় এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তাত্ক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের অপারেটর জিয়াউর রহমান বলেন, আগুন লাগার খবরে প্রথমে পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন সম্ভাবনায় পরে পর্যায়ক্রমে আরো দুইটি ইউনিট বাড়ানো হয়।

পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। একইসঙ্গে  আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে তারা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেন। এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রসঙ্গত, গত মাসের ২৫ নভেম্বর মধ্যরাতে কালশী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার বাউনিয়াবাদের সি ব্লকের বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।  তখন অন্তত তিন শতাধিক ঘর পুড়ে যায়। চলতি বছরের ১১ মাসে কমপক্ষে ৩০ বার রাজধানীর বস্তিগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।