বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারিক আদালত পরিবর্তন চেয়ে আসামিদের করা আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেয়। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হওয়ায় আবেদনটি হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে শুনানির জন্য পেশ করার সুযোগ রয়েছে। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও আসামিপক্ষে মনসুরুল হক চৌধুরী শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বলেছে, আপনারা (আসামিপক্ষ) বলেছেন ৩৩ নম্বর সাক্ষীকে রিকল করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের আদেশে সাক্ষী রিকলের কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। যদি সেটা না থাকে, তাহলে এ ধরনের আবেদন করার যৌক্তিকতা আছে কি? এই পর্যায়ে মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, ট্রাইব্যুনালে এই মামলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আসামিপক্ষের ১৭ জন আইনজীবী এফিডেভিট দিয়ে বলেছেন, ৩৩ নম্বর সাক্ষীকে রিকল করা হয়েছে, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য নয়? আদালত বলেছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারা অনুযায়ী আবেদন যথাযথ হয়নি। এর পরই আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।
গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় আবরার ফাহাদকে উদ্ধার করা হয়। এরপর চিকিত্সকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আবরারের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত ২৫ আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ইতিমধ্যে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৩৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। সাক্ষ্য গ্রহণের একপর্যায়ে গত ৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আবেদন দেন আসামিরা। একই সঙ্গে আদালত পরিবর্তন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিপক্ষকে না জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের এক সাক্ষীকে রিকল এবং জেরার বিষয়টি সঠিকভাবে রেকর্ড না করায় এই অনাস্থা। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, মামলার বিচারকে বিলম্বিত করতেই আসামিরা এ ধরনের আবেদন করেছেন।
ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, আদালত পরিবর্তনের আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি বলে খারিজ করে দেওয়ায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার কার্যক্রম চলবে।
