খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) উপাচার্যের স্ত্রী ও ছেলেমেয়ের আবেদনকৃত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নীলিমা আফরোজ স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খুকৃবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার গতকাল সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যলয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগে অধ্যাপক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক এবং প্রশাসনিক শাখায় কর্মকর্তা বা সমমান (নবম গ্রেড) পদের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থগিত করা পদগুলোতে খুকৃবির ভিসির স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উপাচার্য নিজেই নিয়োগ কমিটিতে উপস্থিত না থাকার আবেদন করেন মন্ত্রণালয়ে। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক নিয়োগ বোর্ডের জন্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে এবং অপর দুটি নিয়োগ বোর্ডের জন্য গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এ কিউ এম মাহবুবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে গত ১২ ডিসেম্বর ফের মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি নির্দেশনায় তিনটি পদেই নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
খুকৃবির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. শহীদুর রহমান খান বলেন, নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কী কারণে এ নির্দেশনা দিয়েছে তা তার জানা নেই, এটা সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বিষয়। পরবর্তী নির্দেশনা পেলেই নিয়োগ কার্যক্রমের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকে ‘নিয়োগ সিন্ডিকেটের কবলে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়! অর্থের বিনিময়ে আগেই নিয়োগ চূড়ান্তের অভিযোগ। নিয়োগ বোর্ডের প্রধান ভিসি, প্রার্থী তার স্ত্রী-ছেলেমেয়ে’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়।
