দেশের কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এসব অঞ্চলের কোনো কোনো স্থান থেকে এই শৈত্যপ্রবাহ কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঠান্ডার তীব্রতা কমলেও বাড়ছে কুয়াশা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ, সীতাকুণ্ড, কুমিল্লা, শ্রীমঙ্গল, বদলগাছি, তেঁতুলিয়া, রাজারহাট ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরো কোনো কোনো স্থান থেকে দূরীভূত হতে পারে। কনকনে ঠান্ডা কমে আসায় শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ কমে আসছে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আজ মঙ্গলবার আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ টেকনাফে ২৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি ও ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, গতকাল সোমবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শহরের রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ছিন্নমূল মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে জমিতে থাকা আলু ও বোরো বীজতলা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা। গ্রামে অনেকটা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে দরিদ্র মানুষ। কনকনে ঠান্ডায় বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। জ্বর, সর্দি, কাশিসহ শীতজনিত রোগীর ভিড় বেড়ে গেছে জেলা হাসপাতালে।
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চলমান শৈত্যপ্রবাহে বেড়েই চলেছে দুর্ভোগ। অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে বয়স্ক, শিশু ও চরাঞ্চলের ছিন্নমূল, খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। গতকাল সোমবার কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশাঘেরা দিনরাতের সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় ঠক ঠক কাঁপছে মানুষ ও পশুপাখি। জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অনেকেই।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় গত ১৫-২০ দিন ধরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা শুরু হয়েছে। শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ঠান্ডাজনিত রোগসহ ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। রোগীদের চিকিত্সা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
