শখ থেকে মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার আমিনুল

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:৪১

মোশন গ্রাফিক্স, দেশের মিডিয়া পাড়ার অতি পরিচিত একটি সেক্টর। বর্তমান সময়ের টিভি চ্যানেলগুলোর প্রতিটি অনুষ্ঠানকেই একরকম পূর্ণতা এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বকীয়তা দান করে মোশন গ্রাফিক্স। কিন্তু সবার মনে দাগ কেটে দৃষ্টিনন্দন এই কাজগুলোর নির্মাতারা যেন সবসময়ই থাকেন পর্দার পেছনে। তেমনি একজন আমিনুল ইসলাম।

একটা সময় মোশন গ্রাফিক্সের সাথে একেবারেই পরিচিত ছিল না এদেশের মানুষ। এটাও যে একটা আলাদা কাজের জায়গা হতে পারে, সেটা ভাবার মতো মনোভাবও ছিল না কারো। মেজোভাইয়ের কম্পিউটার থাকার কারণে ছোটবেলা থেকেই আমিনুলের আগ্রহের জায়গাজুড়ে ছিল কম্পিউটার। সেখানেই শখের বসে গ্রাফিক্সের কাজের হাতেখড়ি। টেলিভিশনে দেখা মোশন গ্রাফিক্সের কাজ করবেন বললেই পরিবারের মানুষরা হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এরপরও নিজ ইচ্ছায় শিখেছেন খুঁটিনাটি কাজ। নিজের পোর্টফোলিও বানাতে ঘরে বসেই বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে কাজ শুরু করেন তিনি। অর্থ উপার্জনের জন্য না, বরং নিজের কাজের মানোন্নয়নই ছিল মূল লক্ষ্য।

২০১০ সালে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন আমিনুল ইসলাম। স্পেশালিস্ট গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন সময় টেলিভিশনে। তখন কেবল যাত্রা শুরু করেছে সময় টেলিভিশন। স্পেশালিস্ট গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করেন আমিনুল। তার হাত ধরেই তৈরি হয়েছে সময় টিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ইন্ট্রো।

২০১৬ সালের শেষের দিকে সময় টিভিতে কাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলের আমন্ত্রণে দেশের বাইরেও কাজ করেছেন আমিনুল ইসলাম। সে সময় টিলিভিশনে কাজের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বিভিন্ন কাজ করেন তিনি। অফিসের কাজের বাইরে রাত জেগে কাজ করেছেন মাইক্রোসফটের বিভিন্ন প্রজেক্টে। 

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান আমিনুল ইসলাম। সেখানেই নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। মোশন গ্রাফিক্স নিয়ে কাজ করা এই তরুণ বর্তমানে বাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে। ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন এলিজাবেথ জে স্টেইনবার্গ এবং পল ব্রডি নামক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থায়। 

সময় টিভির বিভিন্ন কাজ, ফ্রিল্যান্স মার্কেটে ভারী পোর্টফোলিও, কাজের মান আর অভিজ্ঞতা, এর সব কিছুই তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে একেকটি অর্জনের দিকে। তার অনবদ্য কাজের স্বীকৃতি সরূপ ব্রডকাস্ট ডিজাইনের জন্য তিনি জিতেছেন গোল্ড অ্যাওয়ার্ড আইডিএ ২০১৫।

এই সেক্টরে নতুনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রথমেই বুঝতে হবে, কোন ধরনের কাজ করতে চান। ইন্টারনেট আর ইনফরমেশন এখন অনেক সহজলভ্য। বিভিন্ন টিউটোরিয়াল বা টেলিভিশনে বিভিন্ন ইফেক্ট দেখে সেটা কিভাবে বানানো হয়েছে, তা শেখাটা এখন খুবই সহজ। মোট কথা শেখার ইচ্ছা থাকতে হবে।