মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ
বিজিবি সদরদপ্তর, পিলখানা, ঢাকা
বই পড়া
১. “জ্ঞানতৃষ্ণা তার প্রবল, কিন্তু বই কেনার বেলা সে অবলা। আবার কোনো কোনো বেশরম বলে, বাঙালির পয়সার অভাব।” বটে? কোথায় দাঁড়িয়ে বলছে লোকটা এ কথা? ফুটবল মাঠের সামনে দাঁড়িয়ে, না, সিনেমার টিকিট কাটার ‘কিউ’ থেকে? থাক্ থাক। আমাকে খামাখা চটাবেন না।
ক. কেউ স্বেচ্ছায় বই পড়লে আমরা তাকে কোনো দলে ফেলে দিই? ১
খ. ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়’- উক্তিটির অর্থ বুঝিয়ে লেখ। ২
গ. উদ্দীপকে বাঙালি জাতির বই না কেনার প্রবণতা ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের কোন ঘটনাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. ‘আমাদের হীনম্মন্যতাই আমাদের বই না কেনার মূল কারণ’- উক্তিটি উদ্দীপক এবং ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো। ৪
ক. কেউ স্বেচ্ছায় বই পড়লে আমরা তাকে নিষ্কর্মার দলে ফেলে দিই।
খ. উক্তিটি দ্বারা মনের প্রসারতার সাথে জ্ঞানের
প্রসারতার সম্পর্ককে বোঝানো হয়েছে। জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা যেমন রয়েছে তেমনি তা রক্ষা করার জন্যও জ্ঞানের দরকার।
ধনসম্পদ অর্জন কতেমনি তা রক্ষা কসম্পদশালী জ্ঞানহীন তার সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে না। আর এই জ্ঞান অর্জন করতে হলে প্রধান শর্ত হলো একটি সুন্দর মন থাকতে হবে। মনের প্রসারতা থাকলে জ্ঞানেরও প্রসার ঘটবে সহজে। তাইতো লেখক বলেছেন, ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’ উক্তিটি দ্বারা মূলত মনের প্রসারতার সাথে জ্ঞান প্রসারণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেই বোঝানো হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে বাঙালি জাতির বই না কেনার প্রবণতা ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে বর্ণিত পেশাদারদের কাব্যগ্রন্থ না কেনার মানসিকতাকে ইঙ্গিত করে। ‘বই পড়া’ প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপদৃষ্টি অর্থের ওপর নিবদ্ধ। তাই ব্যবসার প্রসারের জন্য পেশাদাররা হাজারখানা ল-রিপোর্ট কিনলেও সাহিত্যচর্চার জন্য একটি কাব্যগ্রন্থ কিনতেও নারাজ। এ প্রবণতা উদ্দীপকের ঘটনাতেও দেখা যায়। উদ্দীপকে বর্ণিত আছে, বাঙালি জাতি বই কিনতে অনিচ্ছুক। এ জন্য কেউ কেউ বলে বাঙালি পয়সার অভাবে বই কিনতে পারে না। কিন্তু বাঙালি খেলা দেখার জন্য বা সিনেমা দেখার জন্য অনেক টাকা ব্যয় করলেও বই কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ে অনাগ্রহী। অর্থাত্, বাঙালি বিনোদনপ্রেমী হলেও সাহিত্যপিপাসু নয়। ‘বই পড়া’ প্রবন্ধেও দেখা যায়, বাঙালি ব্যবসার প্রয়োজনে হাজার টাকা খরচ করে হাজারখানা ল-রিপোর্ট কেনে, কিন্তু একটিও কাব্যগ্রন্থ কেনে না। কারণ এতে ব্যবসার কোনো প্রসার সম্ভব নয়। উদ্দীপকেও তেমনটাই দেখা যায়, অন্য কাজে টাকা ব্যয় করলেও বই কিনতে টাকা ব্যয়ের কোনো আগ্রহ নেই বাঙালির। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের বাঙালি জাতির বই না কেনার প্রবণতা ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে বর্ণিত পেশাদারদের কাব্যগ্রন্থ না কেনার মানসিকতাকেই ইঙ্গিত করে। ঘ-এর উত্তর আগামী শনিবার
