সারা দিন বিজ্ঞানের অতি আশ্চর্য আবিষ্কার নিয়ে পড়াশোনা করে যখন বাড়ি ফিরতে একটু রাত হয়ে গেল, তখন রাস্তার পাশের বাঁশঝাড়টা একটু নড়ে উঠতেই আমরা চমকে উঠে বুকে থু দিই। লকডাউনের দীর্ঘ রুদ্ধকর অবস্থার পর রাস্তার ফুচকা আমাদের কাছে অমৃত বলে মনে হয়, খাওয়ার আগে আবার হাতে স্যানিটাইজারও মাখি। আমরা পরচর্চাকে ঘৃণা করি, তবে মাঝে মাঝে কারো কারো সম্বন্ধে সত্যি কথা বলার লোভটা সামলাতে পারি না। আদা চা, কালিজিরা হলো করোনার ওষুধ—একথা বিশ্বাস করি না। তবে ভাবি, খেলে তো ক্ষতি হচ্ছে না কোনো! আমরা নারীজাগরণের কথা বলি। যদিও রাস্তায় স্কুটার চালানো কোনো মেয়েকে দেখে তাকিয়ে থাকি আর বিড়বিড় করে বলি, ‘কী দুঃসাহস’। আমরা গৌরবের সঙ্গে বিজয় দিবস পালন করি, অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি। কিন্তু ভুলে যাই অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে, সংস্কৃতি মানে, সম্মান আর পুজোর মধ্যে পার্থক্য!
‘আমরা আরম্ভ করি, শেষ করি না; আড়ম্বর করি, কাজ করি না; যাহা অনুষ্ঠান করি, তাহা বিশ্বাস করি না; যাহা বিশ্বাস করি, তাহা পালন করি না...’
আসলে, রবীন্দ্রনাথ কি বাঙালির সংজ্ঞা হিসেবে ভুল কিছু বলেছেন!
ফজিলাত উন নেছা
