বানেশ্বর ও ঝলমলিয়ায় মহাসড়কের ওপর হাট

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২২

জনদুর্ভোগ চরমে

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বানেশ্বর ও ঝলমলিয়া হাটের জায়গা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখল নিয়ে নিজস্ব গোডাউন তৈরি করেছেন। এ কারণে হাটের দোকান বসে ও কেনাবেচা করা হয় মহাসড়কের ওপর। হাটের দিন সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি সাধারণ পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

জানা গেছে, বানেশ্বর হাট ও পুঠিয়া পৌরসভার ঝলমলিয়ার হাট উত্তরবঙ্গের প্রথম শ্রেণির হাটের মধ্যে রয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বানেশ্বর হাট প্রায় সাড়ে ১১ একর জমির ওপর অবস্থিত। বানেশ্বর হাট সপ্তাহে দুই দিন (শনি ও মঙ্গলবার) বসে। অন্যদিকে ঝলমলিয়ার হাট প্রায় ছয় একর জমির ওপর অবস্থিত। ঝলমলিয়া হাট সপ্তাহের দুই দিন (সোম ও বৃহস্পতিবার) বসে। সরকারি বিধি মোতাবেক হাটের জায়গায় কোনো ধরনের স্থায়ী ঘর নির্মাণ ও দখল অবৈধ। কিন্তু এলাকার প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা হাটের জায়গায় দোকানঘর ও গোডাউন নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে তাদের নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেকেই আবার গোডাউন ঘরগুলো ভাড়া ও বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বানেশ্বর হাটের জায়গা ক্রমেই বেদখল হচ্ছে। তাই স্থানীয় কৃষক ও ফড়িয়ারা ফসলাদি বিক্রির জন্য মহাসড়কের দুপাশ দখল করে বসছেন। ফলে বানেশ্বর হাটের দিন শনি ও মঙ্গলবার ভোর থেকে সারা দিন প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। এছাড়া ঝলমলিয়া হাটের দিন সোম ও বৃহস্পতিবার এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে কেনাবেচা করতে হচ্ছে। পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের নজরদারির অভাবে উভয় হাটের জায়গা প্রতিনিয়ত বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি যেন দেখার কেউই নেই। এ ব্যাপারে বানেশ্বর হাটে আসা স্থানীয় কৃষক মোতালেব হোসেন বলেন, এই মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের যানবাহন সার্বক্ষণিক চলাচল করে। আর রাস্তার ওপর কেনাবেচা করার সময় আমরা খুবই আতঙ্কে থাকি। অথচ আমাদের প্রতি মণ মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা খাজনা দিতে হয়। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা কাঁচামালের ব্যবসায়ী লিয়াকত শেখ বলেন, হাটের জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে রেখেছেন। তারা বড় বড় গোডাউন তৈরি করে নিজেরা ভাড়া খাটাচ্ছেন। আবার কেউ মোটা অঙ্কের অর্থে বিক্রি করছেন। অথচ প্রতিটি মালামালে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে চরম দুর্ভোগ পোহানোর পাশাপাশি আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে আমাদের।

এ বিষয়ে পবা হাইওয়ে থানার (শিবপুর হাট) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক লুত্ফর রহমান বলেন, সপ্তাহের চার দিন বানেশ্বর ও ঝলমলিয়া হাট ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের সঙ্গে বসায় সেখানে যানজট লেগে যায়। এতে মাঝেমধ্যে সাধারণ পথচারী, জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের যাতায়াতে চরম ব্যাঘাত ঘটে। আমাদের লোকজন দুটি হাটেই সার্বক্ষণিক তদারক করে। আমরা ইজারদারকে অসংখ্যবার বলেছি, যেন মহাসড়কের ওপর কেনাবেচা বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এব্যাপারে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, এখন পৌরসভার নির্বাচন চলছে। ফের নির্বাচিত হলে আগামী এক বছরের মধ্যে ঝলমলিয়া হাট দখলমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি পৌরসভার পক্ষ থেকে গোডাউন ভেঙে নির্ধারিত পরিসরে ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।