ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পেঁয়াজের বীজতলা পাহারা দিচ্ছে চাষিরা। তার মধ্যেও বীজতলা থেকে চারা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে চারার অভাবে অনেক চাষি পেঁয়াজ চাষ করতে পারছে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলায় ৯ হাজার ৫০ হেক্টরে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এবার পেঁয়াজবীজের অস্বাভাবিক দাম ছিল। এক কেজি হাইব্রিড পেঁয়াজবীজ কিনতে হয়েছে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে। আর সাধারণ মানের পেঁয়াজবীজের দাম ছিল সাড়ে ৬ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। চাষিরা এ দামে বীজ কিনে চারা তৈরি করেছে। বর্তমানে চারার টানাটানি দেখা দিয়েছে। এক কেজি পেঁয়াজের চারা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে ৬০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকার চারা লাগছে। এ কারণে রাতে বীজতলা থেকে চারা চুরি হচ্ছে।
শৈলকুপা বাজারের বীজ ব্যবসায়ী রাশেদুল হাসান জানান, গোবিন্দপুর গ্রামের এক চাষির বীজতলা থেকে চারা চুরি করে নিয়ে গেছে। শৈলকুপার বিজুলিয়া গ্রামের বড় পেঁয়াজ চাষি বাচ্চু মোল্লা জানান, চারার অভাবে অনেক চাষি পেঁয়াজ চাষ করতে পারছে না। তারও চারা ঘাটতি পড়েছে। চুরির ভয়ে চাষিরা রাত জেগে পেঁয়াজের বীজতলা পাহারা দিচ্ছে।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, পেঁয়াজের উচ্চমূল্যের কারণে চাষি পেঁয়াজ চাষে বেশি ঝুঁকেছে। ফলে শৈলকুপা উপজেলায় চারার কিছুটা অভাব দেখা দিয়েছে। তবে সরকার থেকে শৈলকুপা উপজেলায় প্রণোদনা হিসেবে ১ হাজার ৩০০ চাষিকে পেঁয়াজবীজ দেওয়া হয়েছে।
