হাঁড়ি চড়ছে না ব্রাদার্সের চুলায়

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৮

স্পোর্টস রিপোর্টার

দেশের ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ব্রাদার্স ইউনিয়ন যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন। দলবদলের দেড় মাস সময়ে ১২ ক্লাব খেলোয়াড় তালিকা জমা দিলেও ব্রাদার্স পারেনি সাংগঠনিক দুর্বলতায়। ফেডারেশন কাপ ফুটবলে আজ আরামবাগের বিপক্ষে ব্রাদার্সের খেলা। অথচ অনুশীলন নেই। গতকাল বিকালে হালকা ওয়ার্মআপ করানো হয়েছে পাশের মাঠে।

ব্রাদার্সের ইতিহাস তো দূরের কথা। ফুটবল দুনিয়ায় এমন ঘটনা আছে কি না, বলা কঠিন। প্রস্তুতি ছাড়াই একটা ফুটবল দল মাঠে নামছে। খেলোয়াড়রা বললেন, মিরাজ ভাই কোচ। তিনি আমাদের অনুশীলন করাবেন। মহিদুর রহমান মিরাজ হচ্ছেন বাফুফের সদস্য। তিনি ক্লাবের কোচিং করাতে পারবেন কি না, তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে ব্রাদার্সের চুলায় রান্নাবান্না হচ্ছে না। খেলোয়াড়রা হোটেলে খাচ্ছেন। ক্লাবের পাশে বিক্রমপুর সিরাজী হোটেলে বলা আছে। হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ঢুকলে গা ঘিনঘিন করে উঠেবে। এখানেই ব্রাদার্সের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি দলের খেলোয়াড়দের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন ব্রাদার্সের ডাইরেক্টর ইনচার্জ মহিউদ্দিন মহি। এ হোটেলের ষাটোর্ধ্ব মালিক দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন খেলোয়াড়রা খেয়ে যাবেন। কে কত টাকার খাবার খেলেন সেটা নিজেই এই টালি খাতায় লিখে রাখছেন। বিল পরে দেওয়া হবে। আমের ভাই বলে গেছেন। মিঠু, কৃষ্ণ, সবুজ, জাফর, মোকাররম, সুজন, রকি, শান্ত, নাইম, উত্তম, রানা, টিটু, ফোরকান, সরোয়ার, প্রকাশরা খাবার খেয়েছেন ৩৫ টাকা, ৮০ টাকা, ১৩০ টাকায়। খেলোয়াড়দের কণ্ঠে হতাশা। বললেন, ‘ক্লাবে রান্না হয় না। আমরা সিরাজী হোটেলে খাই।’ এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য ম্যানেজার আমের খানের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি নামাজের কথা বলে আর সাড়া দেননি।

৮০র দশকের গোড়ায় ফেডারেশন কাপ ফুটবল এবং ঢামফা কাপ টুর্নামেন্টের প্রথম দুুই আসরেই মোহামেডানের সঙ্গে যুগ্ম-চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। আগাখান গোল্ডকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন দেশের ফুটবলে আলো ফেলেছিল। সর্বশেষ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার্স। বহু ফুটবলার জন্ম দেওয়া ব্রাদার্সের খেলার আগের দিন ক্লাবে কর্মকর্তা, শুভাকাঙ্ক্ষিদের পদচারণায় মুরখরিত থাকত। কাল সেই নীল কমলা দলের টেন্টে গিয়ে দেখা গেল খা খা করছে। খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে রাজ্যের হতাশা। নোংরা ঘরে শুয়ে, কেউ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত, কেউ বিছানা গোছাচ্ছেন। আরিফুল ইসলাম, সুজনদের জিজ্ঞাসা করলেও তারা মুখ খুলতে রাজি না। পালটা প্রশ্ন করলেন—‘লিখে কী হবে?’ খেলোয়াড়রা ক্যাম্পে এসে নিজেরা মিলে রুম পরিষ্কার করেছেন। টয়লেটের চিত্র না বলাই ভালো। সুজন বললেন, ‘একটা প্লেয়ারের ফিটনেস আনতে কমপক্ষে ১৫ দিন লাগে। আমরা কোনো রকম ওয়ার্মআপ করে কালকে (আজ) মাঠে নামব।’