ইউরোপিয়ান সুপার লিগ
স্পোর্টস ডেস্ক
বার্সেলোনা ছাড়ার আগে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ জানিয়েছিলেন যে, তিনি ইউরোপিয়ান সুপার লিগের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। এবার বার্তোমেউর সঙ্গে সুর মেলালেন রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনা পেরেজও। তবে পেরেজের এই অবস্থানের ক্ষুরধার সমালোচনা করেছেন লা লিগা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবেস।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অভিজাত ক্লাবগুলো মিলে আলাদা একটি লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। অভিজাত ১৬টি ক্লাব মিলে হবে এই লিগ, মৌসুমে প্রতি ক্লাব খেলবে ৩০ ম্যাচ, পরিকল্পনা অনেকটা এ রকমই। এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও বার্সার বিদায়ি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের শেষ সংবাদ সম্মেলনে বার্তোমেউ বলেছিলেন, সুপার লিগের প্রস্তাবে লিখিত সম্মতি দিয়েছেন তিনি। এবার ইউরোপের আরেক শীর্ষস্থানীয় ক্লাব, রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্টও ইঙ্গিতে একই কথা বললেন, ‘কিছুই আর আগের মতো থাকবে না। ফুটবলকে আরো আকর্ষণীয় করতে হবে আমাদের। ফিফা এবং ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমানে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফুটবলের বর্তমান মডেলে পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন গতিপথে এগোতে হবে ফুটবলের এবং সেই গতিপথের প্রাণকেন্দ্রেও থাকবে রিয়াল মাদ্রিদ।’
যদি সব বড় লিগ থেকে অভিজাত ক্লাবগুলো চলে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেসব লিগ। তবে সেই বাস্তবতায় দৃষ্টিপাত না করে লা লিগা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবেস প্রস্তাবিত এই সুপার লিগের কাঠামোকেই এক হাত নিলেন, ‘এটা আনুষ্ঠানিক কিছু না। সুপার লিগ একটা অসম্ভব প্রকল্প। যে বলবে এটা সম্ভব, সে ফুটবল ব্যবসার কিছু বুঝে না। কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানই এই লিগের দায়িত্ব নেবে না। কারণ এই লিগকে সাহায্য করলে ফিফা, উয়েফার সঙ্গে যুদ্ধে নামতে হবে তাদের। এই দুই প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া নতুন কোনো প্রতিযোগিতা মাঠে নামাতে পারবেন না আপনি।’
উয়েফা অবশ্য পূর্বে বিরোধিতা করেছে এই সুপার লিগের। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল যে তারা এই সুপার লিগের ‘ঘোরবিরোধী’। ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ২০২১ সাল থেকে বড় পরিসরে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
স্কাই স্পোর্টসের মতো অনেক সংবাদমাধ্যমই পূর্বে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ৬ বিলিয়ন ইউরোর এই জাঁকজমকপূর্ণ লিগে সম্মতি দিয়েছে স্পেনের তিন বড় ক্লাব—বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেরও এই লিগে সম্মতি আছে বলে খবর। ফিফার নতুন ক্লাব বিশ্বকাপ এবং এই প্রস্তাবিত ইউরোপিয়ান সুপার লিগ আলোর মুখ দেখলে চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ।
