হাসপাতাল, নাকি পার্টি সেন্টার?

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:১৯

টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের অনিয়ম ভয়ংকর পর্যায়ে। এটি হয়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেটের পার্টি সেন্টার! হাসপাতালের সেবা-তত্ত্বাবধায়ক এবং উপ-সেবা-তত্ত্বাবধায়ক সিন্ডিকেট করে সব সুপারভাইজার, ওয়ার্ড ইনচার্জদের জোর করে বাধ্য করেন হাসপাতালে জন্মদিনের পার্টি দিতে এবং সেবা তত্ত্বাবধায়ক নিজেই পার্টির মেন্যু ঠিক করেন। হাসপাতালে নার্সের সংখ্যা ৭০ জনের ওপরে। কিন্তু যেসব সিনিয়র স্টাফ নার্সের চাকরির বয়স কম তাদের নাইট ১৮ দিন পরপর এবং যেসব নার্সের চাকরির বয়স বেশি তাদের নাইট ডিউটি ৩০ দিন পরপর এবং ওয়ার্ড ইনচার্জদের নাইট ডিউটি ৬০ দিন পরপর। সুপারভাইজারগণ সিন্ডিকেট করে নাইট ডিউটি করেন না—তাঁরা বিকালে ডিউটি করে স্বাক্ষর খাতা তালাবদ্ধ করে রাখেন। সিনিয়র স্টাফ নার্সগণ নাইট ডিউটিতে এসে কেউ স্বাক্ষর খাতায় স্বাক্ষর করতে পারেন না। স্বাক্ষর করার জন্য সকাল ৮টার পর সুপারভাইজারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। গিফটের বিনিময়ে অনেকে অতিরিক্ত ছুটি পায়। মাঝেমধ্যেই দুই-এক জন করে সুপারভাইজার ডিউটিতে আসেন না; পরে অফিসে এসে বিগত দিনের স্বাক্ষর করেন। কিছু সিনিয়র স্টাফ নার্স সেবা তত্ত্বাবধায়ককে ম্যানেজ করে সুপারভাইজার হিসাবে কাজ করেন। এই নার্সদেরও নাইট ডিউটি করার কথা, কিন্তু তাদের নাইট ডিউটির চাপ অন্য নার্সদের ওপর এসে পড়ে। সেবা তত্ত্বাবধায়ক সপ্তাহে মাত্র দুই-তিন দিন অফিসে এলেও অনুপস্থিতি-দিনের স্বাক্ষর করতে কখনো ভোলেন না। একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স বিগত ১২ বছর ধরে ওটির ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ডিজি নার্সিং থেকে নোটিস হয়েছে যে, একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ইনচার্জের দায়িত্ব দুই বছরের বেশি পালন করতে পারবেন না। আরো একটি নোটিস হয়েছিল যে, একজন নার্সের নাইট ডিউটি অন্য নার্স করতে পারবেন না। কিন্তু এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে। সম্প্রতি হাসপাতালের হিসাবরক্ষক চলে যাওয়ায় যে সিনিয়র স্টাফ নার্স অ্যাকাউন্টস সেকশনের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি টাকার বিনিময়ে ডাক্তারদের ব্যক্তিগত কাজ করে থাকেন। ঐ নার্স নার্সের পোশাক না পরে শুধু সকালের ডিউটি করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শুধু ছেলে নার্সগণ ডিউটি করে থাকেন। ছেলে নার্সগণ মাইনর অপারেশনও করেন! জরুরি বিভাগের ইনচার্জের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জরুরি বিভাগে আসা পুলিশ কেস ও সাধারণ রোগীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, এই টাকার বড় অংশের ভাগ পাচ্ছেন সেবা তত্ত্বাবধায়ক। অথচ ইনডোরের অসংখ্য পুরুষ রোগী নিয়ে বিপাকে পড়ছেন মেয়ে নার্সরা। এসব বিষয় নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীদের নানানভাবে হয়রানি করা হয়। সেবা তত্ত্বাবধায়ক ডিসেম্বর মাসে মাত্র কয়েক দিন হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু পার্টি থাকলে ঠিকই আসেন, যেমন এসেছেন গত সোমবার। উপরিউক্ত অনিয়ম ও সমস্যাগুলো তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক