বিপিসির এলপিজি ভোক্তা পর্যায়ে সরাসরি বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালা অনুসারে একজন ক্রেতা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে মাসে সর্বোচ্চ দুই সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে পারবেন। কিন্তু এই সুযোগে কিছু অসাধু ক্রেতা বিভিন্ন লোককে উপস্থাপন করে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার কিনে নিচ্ছে। পরে তা খুচরা পর্যায়ে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিপিসির এলপি গ্যাস বাজারজাত প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলে অনুমোদিত ডিলাররা দাবি করছেন। এতে ডিলাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিপিসির মালিকানাধীন দেশে দুইটি এলপিজি প্ল্যানের মধ্যে গত সাড়ে তিন মাস যাবত্ সিলেটের কৈলাশটিলার প্ল্যান্টে এলপিজি উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। রূপান্তিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড থেকে গ্যাস না পাওয়ায় কৈলাশটিলায় উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারি প্ল্যান্ট থেকে দৈনিক ৪০ টনের মতো এলপি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
একদিকে বিপিসির এলপি গ্যাস উত্পাদন কমে যাওয়ায় ক্রেতারা চাহিদা অনুপাতে এলপিজি পাচ্ছে না। অন্যদিকে দ্বিমুখী বাজারজাত প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।
বিপিসির উত্পাদিত এলপিজি তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনার মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়। এই নিয়মে দীর্ঘদিন যাবত্ এলপিজি ভোক্তা পর্যায়ে বাজারজাত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে পতেঙ্গায় অবস্থিত এলপি গ্যাস লিমিটেড কার্যালয় থেকে সরাসরি খুচরা গ্রাহকদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বোতল গ্যাস সরকার নির্ধারিত ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিক্রি করতে গিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজন গ্রাহক মাসে সর্বোচ্চ দুটি গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু নানা অনিয়মের মাধ্যমে এক ব্যক্তি একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করছে। পরে কম দামে ক্রয় করা এসব গ্যাস সিলিন্ডার চড়া দামে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মিল গেইটে বিক্রি প্রক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসের অভিযোগ উঠেছে।
জানতে চাইলে এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘একজন ক্রেতা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে মাসে সর্বোচ্চ দুটি বোতল গ্যাস কেনার বিপিসির অনুমোদন রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ বোতল গ্যাস বিক্রি হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী দৈনিক ১/২ গাড়ি এলপিজি নিয়ে যায়। কৈলাশটিলার প্ল্যান্ট গ্যাস সংকটে গত সাড়ে ৩ মাস যাবত্ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। এতে প্ল্যান্টের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রামের প্ল্যান্ট থেকে দৈনিক ৪০ টন এলপিজি উত্পাদন হচ্ছে। এসব গ্যাসে ৩ হাজার ২০০ বোতল গ্যাস সিলিন্ডার হয়ে থাকে।’
বিপিসির প্রায় ৬ হাজার অনুমোদিত ডিলার রয়েছে। তাদের মাধ্যমে বিপিসির এলপিজি ভোক্তা পর্যায়ে বাজারজাত করা হয়। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সভাপতি মো. খোরশেদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিপিসির তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর দেশের বিভিন্ন স্থানে ডিপো রয়েছে। তারা ডিলারদের মাধ্যমে বাজারজাত করছে। এলপি গ্যাস লিমিটেড খুচরা পর্যায়ে সরাসরি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করায় ডিলাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা গ্যাস পাচ্ছে না। এর পিছনে অসত্ উদ্দেশ্য রয়েছে। আমরা বিষয়টি বিপিসি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।’ সরকারিভাবে বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ও সিলেটের কৈলাশটিয়ায় দুটি প্ল্যান্ট রয়েছে। এই দুটি প্ল্যান্টের বাত্সরিক উত্পাদন ক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার টন। এখন ইস্টার্ন রিফাইনারি প্ল্যান্টে দৈনিক ৪০ টন এলপিজি উত্পাদন হচ্ছে।
