রংপুরে চিনিকল শ্রমিক ও আখচাষিদের আধাবেলা হরতাল আজ

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৩

বন্ধ চিনিকল চালুসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ বুধবার শ্যামপুর এলাকায় আধা বেলা হরতালের ডাক দিয়েছেন চিনিকল শ্রমিক ও আখচাষিরা। গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে হরতাল কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেন শ্যামপুর চিনিকল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বুলু আমিন। আখ মাড়াই মৌসুমে শ্যামপুরসহ বন্ধ ছয়টি চিনিকল খুলে মাড়াই কার্যক্রম চালুর দাবিতে এই কর্মসূচি দিয়েছে শ্যামপুর চিনিকল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ও আখচাষি কল্যাণ সমিতি।

বুলু আমীন বলেন, ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ৯টি চালু করলেও এখনো ছয়টি বন্ধ রয়েছে। তার মধ্যে শ্যামপুর চিনিকল একটি। অবিলম্বে এটি চালু করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ পাঁচ দফা দাবি আদায় না হলে ২৪ ডিসেম্বর থেকে রেলপথ, রাজপথ অবরোধসহ আরো কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। এর আগে গত ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর চিনিকল খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও সমাবেশ করেছে আখচাষি ও শ্রমিক-কর্মচারী।

রংপুর জেলার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্যামপুর চিনিকল। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিনিকল দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করেন। শ্যামপুর চিনিকল আখচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান সাগর বলেন, ৮ থেকে ১০ হাজার আখচাষি অর্থকরী ফসল আখের চাষ করে আর্থিক সচ্ছলতা পেয়েছেন। তার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী, রিকশাওয়ালা, নৈশপ্রহরী এবং আরো অনেকে এই চিনিকলের ওপর নির্ভর করে জীবন-জীবিকা পরিচালনা করে আসছেন।

শ্যামপুর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা চার-পাঁচ মাসের বেতন-ভাতা না পেয়ে, অবসরকালীন শ্রমিক-কর্মচারীরা  অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বর্তমানে শ্যামপুর চিনিকলসহ স্থগিতকৃত ছয়টি চিনিকলই আখ মাড়াই কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মিল চালানোর প্রয়োজনীয় প্রায় সব ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছে। এই সময়ে শ্যামপুর চিনিকলের মাড়াই বন্ধ রেখে শ্যাম্পুর চিনিকলের আওতায় উত্পাদিত আখ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জয়পুরহাট চিনিকলে মাড়াই করলে অতিরিক্ত আরো ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা খরচ বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে লোকসান কমানোর যে উদ্দেশ্যে মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পক্ষান্তরে লোকসান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে।

প্রসঙ্গত, গত ১ ডিসেম্বর দেশের ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ছয়টি চিনিকলের মাড়াই বন্ধ রেখে ৯টি চিনিকলের মাড়াই চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন।