গোপালগঞ্জ জেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হামিদুল শরীফকে গুলি করে হত্যার পেছনে দুই খুনির দুই স্বার্থ কাজ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একজন ভেবেছিল, হামিদুলকে হত্যা করা হলে তার লোক পরবর্তী মেম্বার হবেন। আরেক খুনি ভেবেছিল, হামিদুলকে হত্যা করলে ফেঁসে যাবে তাকে অপহরণ মামলার আসামি করা ইউপি চেয়ারম্যান লাচ্চু শরীফ। কারণ অনাস্থা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চেয়াম্যানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল নিহতের। মামলার প্রধান আসামি রবিউল শরীফকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর পাটুয়াটুলী থেকে রবিউল শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত রবিবার গ্রেপ্তার করা হয় আমির মোল্লাকে। পৃথক অভিযানে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যানচালক সাগরকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির এলআইসি শাখা।
গতকাল মঙ্গলবার মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি (ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ) মো. মোমিন হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রথমে ঘটনার সময় ব্যবহূত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়। পরে ঐ মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে একটি পেট্রোল পাম্প ও রূপসা সেতুর টোল প্লাজার সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে যশোরে অভিযান পরিচালনা করে মোটরসাইকেলের মালিক আমির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় রবিউলকে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য।
হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, রবিউল ও আমির মোল্লা দুজনেই যশোরে থাকেন। তাদের মধ্যে রবিউলের বাড়ি নিহত মেম্বারের গ্রামেই। এর পাশের গ্রামেই বাড়ি আমির মোল্লার। রবিউল ভেবেছিল, হামিদুলকে হত্যা করলে তার লোক পরবর্তী মেম্বার হবেন। আন্যদিকে, একটি অপহরণ মামলার আসামি করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চেয়ারম্যান লাচ্চু শরীফের ওপর ক্ষোভ ছিল আমিরের। কয়েক জন মেম্বার মিলে অনাস্থা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল হামিদুলের। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যানকে ফাঁসিয়ে দিতে হামিদুলকে হত্যার চিন্তা করে সে।
পরে রবিউলের সঙ্গে হত্যার পরিকল্পনা করে যশোরের এক সন্ত্রাসীর কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে। ঘটনার দিন ভ্যান থামিয়ে হামিদুলের বুকের বাঁ পাশে চারটি গুলি করে আমির মোল্লা। এরপর মোটরসাইকেলযোগেই তারা আবার যশোরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ হওয়ায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাচ্চু শরীফ বলেন, ‘আমির মোল্লাকে আমি চিনি না, সুতরাং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রশ্নই আসে না। তবে রবিউল শরীফকে চিনি, সে হামিদুল শরীফের পাশের বাড়ির বাসিন্দা। হামিদুলসহ কয়েক জন ইউপি সদস্য মিলে অনাস্থা আনছেন বলে যে কথা সিআইডি কর্মকর্তারা বলেন, তা অস্বীকার করেছেন লাচ্চু শরীফ।
গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গোপীনাথপুর হাই স্কুলের কাছে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন হামিদুল (৪৫)। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
