কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও এগ্রোপ্রসেসিংয়ে ভারতকে বিনিয়োগের আহ্বান

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:২০

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও এগ্রোপ্রসেসিংয়ে ভারতকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশে কৃষি যন্ত্রপাতির বাজার বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের। যা প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ বিশাল বাজারে ভারত যদি সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিনিয়োগ করে , তবে দুদেশই উপকৃত হবে।

কৃষি খাতে বাংলাদেশ-ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে গতকাল মঙ্গলবার দু দেশের এক ডিজিটাল কনফারেন্স কৃষিমন্ত্রী এ কথা বলেন। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি ( সিআইআই) যৌথভাবে এ কনফারেন্সের আয়োজন করে।

ড. রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছে। সরকার এ বছর ২০০ কোটি টাকার মাধ্যমে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে কৃষকদের কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রিপারসহ কৃষিযন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। এছাড়া ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে প্রায় ৫১ হাজার কৃষিযন্ত্রপাতি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণে ভারতের সহযোগিতা দেখতে চাই। ভারতীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট স্থাপন করতে পারে। বাংলাদেশে কৃষিযন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা স্থাপন ও অ্যাসেম্বল হলে দেশে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে অন্যদিকে কৃষকেরা কম দামে যন্ত্রপাতি কিনতে পারবে বলে জানান তিনি।

ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, ভারত- বাংলাদেশ দু দেশেই ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ কৃষিতে সম্পৃক্ত। ভারত বাংলাদেশে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, ফুড প্রসেসিং ও ফিস-অ্যাকুয়াকালচার এই তিনটি খাতে অধিক গুরুত্বসহ কৃষির সব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা করতে আগ্রহী। ফুড প্রসেসিংয়ে একসঙ্গে কাজ করলে বৈশ্বিক ফুডবাজার এই দুদেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলেও তিনি আশা করেন।

বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর আরোপিত এন্টি ডাম্পিং শুল্কের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এসব পদক্ষেপের কারণে আমাদের রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

এফবিসিসিআইর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য আনতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। এটা যৌথ উদ্যোগ, শিল্প বৈচিত্র্যকরণ এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারি।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, টাটা স্টিলের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টি ভি নরেন্দ্রন, মাহিন্দ্র ও মাহিন্দ্রর সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পবন গোয়েঙ্কা, সিআইআইর মহাপরিচালক চন্দ্রজিত্ ব্যানার্জি, এফবিসিসিআইর পরিচালক সুজিব রঞ্জন দাশ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় কৃষিসচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দুদেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।