ছাত্র অধিকার পরিষদের কালো পতাকা মিছিল

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:২৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে ভিপি নুরুল হক নূর ও তার অনুসারীদের ওপর হামলার এক বছর পূর্তিতে কালো পতাকা মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ‘ডাকসুতে হামলার এক বছর :বিচারহীনতার ?বিরুদ্ধে কালো পতাকা মিছিল’ ব্যানারে এই মিছিল করে পরিষদ। বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাদদেশে একত্রিত হন নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভসহকারে কালো পতাকা মিছিলটি নিয়ে রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগে যায়। পরে সেখান থেকে পল্টন ময়দানে গিয়ে সমাবেশ শেষ হয়। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে নুরুল হক নূর ও তার সহযোগীদের ওপর ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা হামলা করেন। হামলার ঘটনা তদন্তে পরদিন ২৩ ডিসেম্বর ছয় সদস্যের কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হামলার ঘটনার এক বছর হয়ে গেলেও এখনো তদন্তই শেষ করতে পারেনি কমিটি।

শহিদ মিনারের সমাবেশে নুরুল হক নূর বলেন, ‘সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে আট বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো আসামিদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর ডাকসুতে হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে সাত দিনের তদন্ত প্রতিবেদন ১২ মাসেও দিতে পারেনি ঢাবি প্রশাসন। আমরা ধিক্কার জানাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকানা প্রশাসনের প্রতি। শিক্ষকদের বলা হয় সমাজ গড়ার কারিগর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় জাতির বিবেক। অথচ প্রকাশ্য দিবালোকে এ রকম একটি ঘটনার এক বছর পরও তারা তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেননি।’

নূর বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার যেমন হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেমন হয়েছে, তেমনি তনু হত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে। এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেওয়া ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিককে ধন্যবাদ জানান।

সরকার এখন তাদের নিরাপত্তার জন্য ‘সেফ এক্সিট’ খুঁজছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের ভাইদের বলব, আপনারা যদি এদেশে রাজনীতি করতে চান, আপনারা জনগণের সঙ্গে যে অন্যায়-নির্যাতন-নিপীড়ন করেছেন, তার জন্য ক্ষমা চেয়ে জনগণের কাতারে আসেন। আপনাদের সঙ্গে বুকে বুক মিলিয়ে রাজনীতি করব।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিউর রহমান প্রমুখ।