এটি মিথ্যা ও বানোয়াট : দাবি মার্কিন নৌবাহিনীর
দক্ষিণ চীন সাগরের নানশা দ্বীপপুঞ্জের উপকূল থেকে মঙ্গলবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর তরফ থেকে বলা হয়েছে, চীন যে দাবি করেছে তা পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট। তারা বলেন, চীনের এ ধরনের প্রপাগান্ডার অর্থই হচ্ছে, তারা ঐ অঞ্চলে তাদের আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। হিন্দুস্তান টাইমস
যুক্তরাষ্ট্র আরো বলেছে, চীনের এ ধরনের বক্তব্যে এটাই প্রমাণ করে যে, তারা সেখানে তাদের অবৈধ দখলদারিত্ব কায়েমে কতটা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সপ্তম বহরের মুখপাত্র লে. জো কেইলি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন যেভাবে তাদের বিবৃতি প্রকাশ করেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও দুরভিসন্ধিমূলক। তারা বলেন, এর মাধ্যমে চীন তাদের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রকাশ করেছে। এটি এ অঞ্চলে আমাদের আইনসম্মত সামুদ্রিক কার্যক্রমকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। তিনি বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ জন ম্যাককেইনকে তাড়িয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য। ঐ দিন চীনা সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, বেইজিংয়ের অনুমতি না নিয়েই মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি নানশা দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। এ কারণে সেই জাহাজটি বিতাড়ন করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল। চীন বহুবার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটন যেন চীন, তাইওয়ান ও হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে। একই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উপস্থিতি বন্ধ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। চীন মনে করে, ঐ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি ও নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ মার্কিন সামরিক উপস্থিতি। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরোটার মালিকানা দাবি করে চীন। কিন্তু ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও তাইওয়ানও এই সাগরের নিজ নিজ উপকূলীয় অঞ্চলের মালিকানা দাবি করে আসছে। বেইজিং বলছে, মার্কিন সরকারই চীনের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছে। আমেরিকার কারণেই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে না।
