যুক্তরাজ্যের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান ইইউর

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৩৪

এরই মধ্যে সীমান্ত খুলে দিয়েছে ফ্রান্স

 বিবিসি

করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইউরোপের দেশগুলো ঢালাওভাবে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ করাসহ ভ্রমণে যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা তুলে নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। ফ্রান্স অবশ্য এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দিয়েছে।

গত শনিবার যুক্তরাজ্য করোনা ভাইরাসের একটি নতুন ধরন শনাক্তের কথা ঘোষণা করে। এ ধরনটি ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রামক বলে জানানোর পরই বিশ্বে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় সব দেশই যুক্তরাজ্যের প্রতি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার ইইউর কার্যনির্বাহী সংস্থা ইউরোপীয় কমিশন সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছে ঐ সুপারিশ করল। জরুরি ভ্রমণের জন্য সীমান্ত খোলা রাখাসহ ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোভিড পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন। তবে ইইউর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর নিজেদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নিজস্বভাবে নিয়মবিধি চালুর এক্তিয়ার আছে এবং তারা চাইলে নিজেদের নীতি বহালও রাখতে পারে।

ইইউ কমিশন বলছে, কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে দ্রুতই পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণ চালু রাখা এবং পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য ফ্লাইট এবং ট্রেন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকাটাও উচিত না। ইইউর একজন কমিশনার বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সব ধরনের যাতায়াত-যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে বড়দিনের এই সময়ে হাজার হাজার ইইউ এবং ব্রিটিশ নাগরিকের বাড়ি ফেরায় বাধা সৃষ্টি করা উচিত না।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দিয়েছে ফ্রান্স। নতুন ধরনের করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এটি বন্ধ করে দিয়েছিল ফরাসি কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্যে নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস অধিক ছোঁয়াচে হলেও এটি খুব বেশি মারাত্মক নয়, এমনটা জানার পরই সিদ্ধান্ত বদল করে প্যারিস। সীমান্ত খুললেও যুক্তরাজ্য থেকে যারা ফ্রান্সে ঢুকবেন, তাদের কাছে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এই সার্টিফিকেট ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের বেশি পুরনো হওয়া চলবে না।