পুলিশ হোক জনতার

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪২

 ‘অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই পুলিশের প্রধান একটি কাজ’—মানুষের এমন ধারণাকে অনেকটা পালটে দিতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বেশ আগে থেকেই সমাজসেবায় পুলিশের আত্মনিয়োগ লক্ষ করা গেছে। নানা ধরনের সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে পুলিশের অংশগ্রহণ অব্যাহত আছে। শিল্প-সাহিত্য, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে তারা।

পুলিশের মানবসেবার বিষয়টি স্পষ্ট ও অনুধাবনযোগ্য করতে, দেখা কিংবা কানে ভেসে আসা কিছু দৃষ্টান্তের কথা তুলে ধরা যেতে পারে। যদি বলি আমাদের এলাকার কথা, তাহলে বলতে হয়—মুমূর্ষু অবস্থায় একজন অসহায় দরিদ্র গর্ভবতী নারীর সিজারের ব্যবস্থা করেছে ধামরাই থানা পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, প্রয়োজনে রক্ত দেওয়ার জন্য তৈরি রাখা হয়েছে পুলিশ সদস্যদের। সেদিন পুলিশের সহায়তার কারণে একটি নবজাতক পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখতে পেরেছে, বেঁচেছে একটি মায়ের প্রাণ। এটা পুলিশের মানবতা আর মহানুভবতা নয় কি? মাদকের করাল গ্রাস থেকে সমাজকে রক্ষা করতে, সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ নামক ভয়াল সামাজিক ব্যাধিকে নিরাময় করতে পাড়া-মহল্লায়, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে পুলিশ। আয়োজন করেছে অভিভাবক সমাবেশের। শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছে শিক্ষা উপকরণ। হারিয়ে যাওয়া শিশুকে ফিরিয়ে দিয়েছে মায়ের কোলে। জীবিত ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সম্মানিত করেছে। সমাজে অবহেলিত ও পিছিয়ে থাকা তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়কে খাদ্যসামগ্রী, ঈদ উপহারসহ নানাভাবে সহযোগিতা করছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রথম সংক্রমণের শুরুতে করোনা প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ। পুলিশের উদ্যোগে প্রথম হ্যান্ডওয়াশ পয়েন্ট স্থাপিত হয়েছে থানা আঙিনায়। বিদেশফেরত কিংবা আক্রান্তের বাড়িতে লাল পতাকা উড়িয়েছেন তারা। ব্যবসায়-প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে নিজ হাতে এঁকেছেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ছক। সহযোগিতা করেছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে। রাতের আঁধারে নৈশপ্রহরীদের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে এমন দুঃসময়ে তারা মানুষের পাশে থেকেছেন। করোনাকালে দায়িত্ব পালন ও সেবা দিতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আবার প্রয়াত হয়েছেন অনেকে। করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণ প্রতিরোধে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। করছে মাইকিং আর স্বাস্থ্যসুরক্ষার সামগ্রী বিতরণ। এর পরও কি পুলিশের মানবতাকে অস্বীকার করা যায়?

আমাদের এলাকায় পুলিশের এসব জনকল্যাণমূলক কাজের নেতৃত্বদানকারী আমাদের ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলাতেই সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা কাজ করছি। পুলিশ যেন হয় জনতার ভরসার নির্ভরযোগ্যস্থল, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

যাহোক, পুলিশের এতসব সেবামূলক কাজের ভেতর দিয়েও মন্দের উদ্রেক হচ্ছে না, তা নয়। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু বিচ্ছিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে, যা সমর্থনযোগ্য নয়। কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্যের অসমর্থনযোগ্য কর্ম তাদেরই অর্জিত সুনামকে অনেকখানি ম্লান করেছে। ঐসব অপ্রীতিকর ঘটনা ও অসমর্থনযোগ্য কর্মের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে অসমর্থন ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো, মন্দকে মন্দ, ভালোকে ভালো বলতে আপত্তি কোথায়? অনিয়ম আর অস্বচ্ছতা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে পুলিশ হোক আরো মানবিক, আরো জনতাবান্ধব। পুলিশ হোক জনতার। এটাই হোক মুজিববর্ষে পুলিশের অঙ্গীকার।

n লেখক :শিক্ষার্থী, যশোর বিজ্ঞান

 ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়