সিলেটের রেললাইন লক্কড়-ঝক্কড় হওয়ায় ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্রিটিশ আমলের তৈরি এই রেল লাইন ও ব্রিজগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক জায়গায় নাটবল্টু চুরি হয়ে গেছে। কোথাও রেল লাইনের পাথর সরে গেছে। এ লাইনে সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ১৩টি সেতু রয়েছে। সব কয়টি সেতু মহাঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনে আগে ট্রেন চলত ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার গতিতে। এখন চলে ৪০ কিলোমিটার গতিতে। এতে যাত্রীসংখ্যা দিন দিন কমে রেলের লোকসানের বোঝা ভারী হচ্ছে। পাহাড়ি ও আঁকাবাঁকা সড়ক হওয়ায় আখাউড়া-সিলেট সেকশনের রশিদপুর থেকে মাইজগাঁও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। নির্মাণের ৫৫ বছর পর রেল সেতুর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এ রুটের সেতুর বয়স শত বছর। সিলেট থেকে মোগলাবাজার স্টেশন পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৮টি ও মোগলাবাজার থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ১৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে ৫টি সেতু ডেড স্পট হিসাবে চিহ্নিত। আখাউড়া-সিলেট রেলপথে পারাবত, জয়ন্তিকা, পাহাড়িকা, উদয়ন, উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রামে যাতায়াত করেন। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, আয়তনের তুলনায় বিশাল জনসংখ্যা, সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনা করে রেলের উন্নয়নে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছে। করোনাকালে অর্থনৈতিক সংকট বিবেচনা করে নতুন রেল লাইন, রেলওয়ে ব্রিজ নির্মাণের আগে বিদ্যমান রেলওয়ে অবকাঠামো সংস্কার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আব্বাস উদ্দিন আহমদ
ধোপাদিঘির দক্ষিণ পাড়, সিলেট ৩১০০
