গাজীপুর জেলায় গেজেট আইন এবং বন বিভাগের হয়রানিমূলক মামলা

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৩

গাজীপুর জেলায় দীর্ঘদিন ধরে বনবিভাগের আর এস গেজেটের কারণে অনেকের পৈতৃক সম্পত্তি কেনাবেচা করতে পারছেন না এবং নামজারিও হচ্ছে না। অনেকে উত্তরাধিকারভাবে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে বাড়িঘর করতে গেলে বন বিভাগ মামলা দিচ্ছে। তদন্ত ছাড়াই বা নোটিস না দিয়ে মামলাগুলি বন বিভাগ দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানির শেষ নেই। বন বিভাগের আর এস গেজেট গাজীপুরবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—বন বিভাগ এমনভাবে মামলাগুলি করে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মামালার ওয়ারেন্ট বের হওয়ার পর জানতে পারে যে সে বন মামলার আসামি। এ অবস্থায় যা প্রয়োজন—

১. গাজীপুর জেলার বন বিভাগের গেজেটভুক্ত সব সম্পত্তির গেজেট বাতিল।

২. ভোগদখলে থাকা পৈতৃক সম্পত্তি যার সিএস, এসএ দাগ ব্যক্তির নামে, তা ভুলবশত বন বিভাগের নামে আরএস হওয়ার অজুহাতে স্থাপনা বা বাড়িঘর নির্মাণে বাধা দেওয়া চলবে না। বন বিভাগের নামে হওয়া এ আরএস দাগ বাতিল করা।

৩. কারো বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়া বন মামলা দেওয়া যাবে না, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে অভিযুক্ত ব্যাক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তবেই মামলা করা যাবে। সেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের নামে মামলা হওয়ার বিষয়টি অবহিত করতে হবে, যাতে সে আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারে। বিনা নোটিসে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। 

৪. সামাজিক বনায়নের নামে শালবন কেটে বিদেশি বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে বন বিভাগ কর্তৃক জীববৈচিত্র্য ধ্বংস রোধ করা।

৫. সামাজিক বনায়নের বরাদ্দে স্থানীয় দরিদ্র ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার দেওয়া। ইতিপূর্বে দেওয়া রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও অন্য জেলার লোকদের বরাদ্দ বাতিল করা।

৬. ভূমিহীন মানুষের বসতভিটা তাদের নামে স্থায়ী বরাদ্দ দেওয়া এবং তাদের নামে বন বিভাগের দেওয়া মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বন মামলা প্রত্যাহার।

উল্লিখিত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজর দেবেন বলে প্রত্যাশা।

কামরুজ্জামান

সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ,

মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, ভাওয়ালগড়, গাজীপুর