স্পোর্টস রিপোর্টার
এখন মোহামেডানের জার্সি গায়ে যারা ফুটবল খেলছেন তাদের কাছে আজ মোহামেডান আবাহনী ম্যাচের উত্তেজনা কতটা তা হয়তো পরিমাপ করা যাবে না। তবে এই দলের সঙ্গে জড়িয়ে সহকারী কোচ আলফাজ আহমেদ এবং ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিবের কাছে এই ম্যাচের বাড়তি গুরুত্ব আছেই। তাদের খেলোয়াড়ি জীবনে দেশ জুড়ে এই ম্যাচের উত্তেজনা উপভোগ করেছেন। মাঠে যেমন পায়ে পায়ে লড়াইয়ের ঠোকাঠুকি ছিল, তেমনি মাঠের বাইরে উত্তাপ ছিল দর্শকের মধ্যে। আলফাজ এবং নকিব দুজনেই একসঙ্গে মোহামেডানে খেলেছেন। খেলেছেন চট্টগ্রাম মোহামেডানেও। তবে ঢাকার মাঠের মোহামেডানে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর। এই দুজন যখন মোহামেডানে খেলছেন তখন সময়টা ছিল একরকম। এখন সামগ্রিক ফুটবলের অবস্থান পরিবর্তন হলেও মোহামেডান আবাহনী ম্যাচের কদর তাদের কাছে আলাদা।
ইরানি কোচ নাসের হেজাজির আবিষ্কার নকিব, বাড্ডা থেকে মোহামেডানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। স্ট্রাইকার নকিব চার বার লিগের সর্বচ্চো গোলদাতা হয়েছেন লিগে। তার মাথার কাজ ছিল অসাধারণ। হেডওয়ার্ক দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তখনকার দর্শক। কাল সন্ধ্যায় মোহামেডান টেন্টে ছিলেন। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত রাখতে কি করা যায় আরেক কর্মকর্তা আবু হাসান প্রিন্সের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন তিনি। নকিব বললেন,‘আগে যখন ফুটবল খেলতাম তখন নিজের খেলাটা নিয়ে চিন্তা করতাম। বাসা থেকে মাঠে যাওয়ার পথে মোহামেডান আবাহনীর পতাক গুনতাম। এখন সেটা নাই, তবে কর্মকর্তা হওয়াতে টেনশন বেড়েছে। এখন ৩০ জনকে (ফুটবলার) নিয়ে ভাবতে হয়। তার পরও বলব মোহামেডান আবাহনী ম্যাচের বাড়তি উত্তেজনা থাকতেই পারে।’
রহমতগঞ্জ, আরামবাগ হয়ে মোহামেডানে যোগ দেওয়া আলফাজ যেন এখনো ভুলতে পারেন না, তার ফুটবল ক্যারিয়ারে দেখা আকাশ ছোঁয়া উত্তেজনা।
শেখ রাসেল, ব্রাদার্স এমকি একবার আবাহনীতে খেললেও মোহামেডানে তার ভালোবাসা একটু বেশি-ই। আজকের ম্যাচ নিয়ে আলফাজ বললেন, ‘মোহামেডান আবাহনী হচ্ছে ডার্বি ম্যাচ।’ তাদের ফুটবল ক্যারিয়ারে দর্শক চাপ ছিল। বল প্লেয়ার ছিলেন আলফাজ। বল নিয়ে ছুটলে দর্শক কীভাবে পেছন থেকে আওয়াজ তুলত তা এখনো আলফাজের কানে বাজে। এখন সেই চাপ না থাকলেও চাপ আছে এখন মোহামেডানকে জেতাতে হবে। আজ ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে মোহামেডানকে জ্বালানি দেবেন দেশ সেরা সাবেক এই দুই স্ট্রাইকার আলফাজ ও নকিব।
