জব্দ হচ্ছে এমপি পাপুলের ব্যাংকের টাকা ও সম্পত্তি

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:৩০

এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংকে থাকা টাকা ও সব সম্পত্তি জব্দ হচ্ছে। ইতিমধ্যে জব্দ করার আবেদন করেছে সিআইডি। গতকাল বুধবার দুপুরে সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পাপুলের বিরুদ্ধে এ বছরের জুলাই মাসের ৭ তারিখে মতিঝিল থানায় এক ব্যক্তি মানব পাচারের অভিযোগে মামলা করেন। তিনি মানব পাচার করে যে টাকা আয় করেছেন, তার বেশির ভাগই পাচার করে দিয়েছেন। আমরা প্রায় ১৩টা ব্যাংকে এসব টাকার তথ্য পেয়েছি। আর যে সম্পদগুলো আছে, সেগুলোও মামলার মধ্যে সংযুক্ত করার জন্য আমরা আদালতে আবেদন করেছি।’

মানব ও অর্থপাচারের দায়ে কুয়েতে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার ৩৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ এনে পল্টন থানায় মামলা করে সিআইডি। পাপুল ছাড়াও তার স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, শ্যালিকা  জেসমিন প্রধান এবং পাপুলের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অর্থপাচার আইনে এই মামলা করা হয়েছে।

এদিকে মানি লন্ডারিং ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পাপুলের স্ত্রী, শ?্যালিকা ও মেয়ের ৬১৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করতে আটটি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা (উপপরিচালক) মো. সালাহউদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়। আদালতের অনুমতি নিয়েই এ চিঠি পাঠানো হয় বলে দুদকের জনসংযোগ বিভাগ নিশ্চিত করেছে। চিঠিতে সাংসদ পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও মেয়ের ?ব?্যাংক হিসাব ফ্রিজ করতে আট ব্যাংকের এমডিকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে পাপুলসহ আট জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আগামী ৩১ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এই তারিখ ধার্য করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের  (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার (অর্গানাইজ ক্রাইম) আলামিন বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় এই মামলা দায়ের করেন। 

মামলার বাকি আসামিরা হলেন—পাপুলের শ্যালিকা, মেয়ে, ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন, ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির, জেসমিন প্রধানের কোম্পানি জে ডব্লিউ লীলাবালী, কাজী বদরুল আল লিটনের মালিকানাধীন কোম্পানি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল, এই কোম্পানির ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচ-ছয় জন।