পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবি

পরিবহন ধর্মঘটে অচল সিলেট

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:২২

পরিবহন ধর্মঘটে সিলেট বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সিলেটের সব পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। তার আগের দিন সোমবার সিএনজি-অটোরিকশা শ্রমিকরা তাদের অটোরিকশায় গ্রিল লাগানোর নির্দেশনা প্রত্যাহার, পুলিশি নির্যাতনসহ পাঁচ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট পালনের পর আজ আবারও সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা বৃদ্ধি করেছে। ফলে পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন পক্ষের ধর্মঘটে নাকাল সিলেটবাসী। সমস্যায় পড়েছেন সিলেটে আসা পর্যটকরাও। অনেক স্থানে পর্যটকদের গাড়ি আটকিয়ে দিচ্ছে পিকেটাররা। এসএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) বি এম আশরাফুল্লাহ                  তাহের জানান, মেট্রোপলিটন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

এদিকে আগামী রবিবার থেকে ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি কর্তৃক নিম্নমানের পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ করে আগের মতো সিলেট গ্যাস ফিল্ডের উন্নতমানের পেট্রোল সরবরাহ, জ্বালানি তেলের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য সিলেটের প্রত্যেক ডিপোতে টেস্টিং ল্যাব স্থাপন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কর্তৃক অন্যায় ও উদ্দেশ্যমূলক হয়রানি আচরণ বন্ধ ইত্যাদি।

পথে পথে দুর্ভোগ

বন্ধ পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদের ডাকে বিভাগ জুড়ে তিন দিনের ধর্মঘট চলায় সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার ভোগান্তির দ্বিতীয় দিন পার করেছেন এ অঞ্চলের মানুষসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকরা। সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের সঙ্গে অন্য পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলনে যুক্ত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় আরো কয়েকগুণ।

গতকাল সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের তেমুখী, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চন্ডিপুল ও তেলিবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও রাস্তায় পিকেটিং করেছেন শ্রমিকরা। নগরের প্রবেশদ্বার ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে বেশির ভাগ সড়কে শ্রমিকদের লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতেও দেখা যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে সিলেট থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো গাড়ি।