মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ দিনগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়বেন কি না এটা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন সাবেক দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ ১৫ জনকে প্রেসিডেন্টের এক্তিয়ারে ক্ষমা ঘোষণা করেছেন তিনি। খবর বিবিসির।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প টিমের যোগসাজশের অভিযোগ তদন্তকালে এফবিআইকে মিথ্যা বলার জন্য সাজা হয়েছিল ট্রাম্পের নির্বাচনি টিমের সাবেক উপদেষ্টা জর্জ পাপাডোপোলাস ও অ্যাটর্নি অ্যালেক্স ভ্যান ডার জোয়ান। তারা দুই জন এরই মধ্যে সাজার কিছু অংশ খেটে ফেলেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের পূর্ণ ক্ষমা করেছেন।
ট্রাম্প যাদের ক্ষমা করেছেন তাদের মধ্যে রিপাবলিকান দলের সাবেক দুই জন আইনপ্রণেতা রয়েছেন। ২০০৭ সালে ইরাকে গণহত্যায় জড়িত চার নিরাপত্তা রক্ষীর সাজা মাফ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। ক্ষমতা ছাড়ার আগে ট্রাম্প আরো বেশ কয়েক জনকে ক্ষমা করতে পারেন। বলা হচ্ছে, ট্রাম্প তার বড় তিন সন্তানকে ক্ষমা করতে পারেন। গত নভেম্বরে ট্রাম্প তার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে ক্ষমা ঘোষণা করেন।
সাংবিধানিকভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ক্ষমা করার অধিকার আছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে সম্পূর্ণরূপে ক্ষমা করেছেন। এছাড়া ১৯ জনের সাজার মেয়াদ কমিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আট বছরে ২১২ জনকে ক্ষমা করেছিলেন। জর্জ ডব্লিউ বুশ আট বছরে ক্ষমা করেছিলেন ১৮৯ জনকে। বিল ক্লিনটন ক্ষমা করেছিলেন ৩৯৬ জনকে। ২০০১ সালে মাদক মামলায় অভিযুক্ত ভাইকে ক্ষমা করেন ক্লিনটন।
করোনা রিলিফ বিল সংস্কারের আহ্বান
মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়া কোভিড রিলিফ বিল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সংশোধন করতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বিলটিকে ‘অসম্মানজনক’ ও ‘অপব্যয়’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, বিলের নাম দেওয়া হয়েছে কোভিড রিলিফ বিল, কিন্তু কোভিডের সঙ্গে এর প্রায় কোনো সম্পর্কই নেই। এই ৯০ হাজার কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজে প্রত্যেক মার্কিনির জন্য ৬০০ ডলার করে বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প ঐ বরাদ্দ জনপ্রতি ২ হাজার ডলার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিলটিতে অন্য দেশের জন্য আর্থিক সহায়তার সমালোচনা করে বলেছেন, ঐ অর্থ দুস্থ মার্কিনিদের জন্য খরচ করা উচিত।
গত কয়েক মাস ধরে এই বিলটি নিয়ে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত সোমবার কংগ্রেসে দুই দলের ঐকমত্যে বিলটি পাশ হয়। বিলে প্রেসিডেন্ট সই করলে আইনে পরিণত হবে।
