মুক্তিযুদ্ধে নারী-পুরুষ উভয়ই অংশ নিলেও নারীদের অবদানের স্বীকৃতি খুব একটা মেলেনি। মুক্তিযুদ্ধে বাংলার অগণিত নারী সাহস আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, চিকিত্সা দিয়ে, খাদ্য সহযোগিতা করে এবং অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে গেরিলা বাহিনীতে অংশগ্রহণ করে সহায়তা করেছেন। তাদের এই গৌরবগাথার ইতিহাস অনেকের অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে ঐ নারীদের গৌরবগাথা সংকলিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
গতকাল বুধবার বিকালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী চলমান বিভিন্ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও নারী’ বিষয়ক অনলাইন আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সভার শুরুতে সংগীত পরিবেশন করেন তরুণ সংগীত শিল্পী মৃদুলা সমদ্দার।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, যদি কোনো আন্দোলনে নারীরা যুক্ত না হয়, তবে তা পূর্ণতা পায় না। অথচ নারীদের অবদানের স্বীকৃতি নেই। মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে অনেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজ করেছেন, এগুলোকে সংগঠিত করতে হবে। সেজন্য নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে নতুন প্রজন্মের গবেষকদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বেগম মুশতারী শফী বলেন, আমাদের প্রথম প্রেরণা ছিল প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। তার জীবনী এক বৈপ্লবিক চেতনার জন্ম দেয়। তার অনুসারীদের নারী আন্দোলনে ভূমিকা ছিল, মাস্টার দা সূর্যসেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্রভাগে ছিলেন। চট্টগ্রামের নারীদের আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, নারী প্রথম বেরিয়ে এসেছিল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। তার বহুমুখী ভুমিকাও ছিল।
